-তৌহিদুল ইসলাম সরকার,
কিশোরগঞ্জে অভিভাবক সমাবেশে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতের প্রত্যয়
শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি অধ্যায় শেষ করার নাম নয়; শিক্ষা হলো একজন মানুষকে জ্ঞান, মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও মানবিকতায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আর এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পরিবারও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই উপলব্ধি থেকেই কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক অভিভাবক সমাবেশ, যেখানে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল (ইংলিশ ভার্সন), কিশোরগঞ্জ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের ফলাফল, শৃঙ্খলা, নৈতিক শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন। তিনি বলেন, একটি শিশুর সফলতা কেবল বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করে না; অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একজন শিক্ষার্থীকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়নে মানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ, শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। এসব বিষয়ে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
সমাবেশে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার উপস্থিত থেকে শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল অভিভাবকদের উন্মুক্ত মতবিনিময়। তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান, সহশিক্ষা কার্যক্রম, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
বক্তারা বলেন, একটি মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; পরিবার, সমাজ এবং প্রশাসনের সম্মিলিত সহযোগিতাও প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সুস্থ, সচেতন ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সবার দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।