1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কেন্দুয়া উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের আলোচনা সভা জামালপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, নাগরিকের সচেতনতা এবং নিরাপদ বাংলাদেশের প্রত্যাশা জামালপুরে আইনজীবীর চেম্বারে অভিযান: অস্ত্র,গুলিসহ বিদেশি মদ উদ্ধার কুলিয়ারচরে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা কটিয়াদীতে শফিকুল হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন নিকলীতে ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ অনুষ্ঠিত হ্যাচারির বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ, নান্দাইলে দুই মালিককে অর্থদণ্ড জনগণের আস্থা হারানোর আগে কুলিয়ারচরচরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণে -প্রতিমন্ত্রী
শিরোনাম
কেন্দুয়া উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের আলোচনা সভা জামালপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, নাগরিকের সচেতনতা এবং নিরাপদ বাংলাদেশের প্রত্যাশা জামালপুরে আইনজীবীর চেম্বারে অভিযান: অস্ত্র,গুলিসহ বিদেশি মদ উদ্ধার কুলিয়ারচরে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা কটিয়াদীতে শফিকুল হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন নিকলীতে ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ অনুষ্ঠিত হ্যাচারির বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ, নান্দাইলে দুই মালিককে অর্থদণ্ড জনগণের আস্থা হারানোর আগে কুলিয়ারচরচরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণে -প্রতিমন্ত্রী

রাষ্ট্রের দায়িত্ব, নাগরিকের সচেতনতা এবং নিরাপদ বাংলাদেশের প্রত্যাশা

  • প্রকাশ কাল বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়েছে

একটি রাষ্ট্রের সাফল্য কেবল তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে বিচার করা যায় না। একটি রাষ্ট্র কতটা সফল, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো—সেই দেশের মানুষ কতটা নিরাপদ, কতটা ন্যায়সঙ্গত পরিবেশে বসবাস করছে এবং রাষ্ট্র তাদের মৌলিক অধিকার কতটা নিশ্চিত করতে পারছে। নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পণ্য, আইনের সুষম প্রয়োগ এবং নাগরিকের সচেতন অংশগ্রহণ—এই চারটি স্তম্ভের ওপরই একটি আধুনিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা দাঁড়িয়ে থাকে।

সোমবার (৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে, সেগুলো কেবল প্রশাসনিক নির্দেশনা নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনার একটি মৌলিক দর্শনের প্রতিফলন। তিনি যেমন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যার কথা শুনেছেন, তেমনি দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিক—দুটিই একে অপরের পরিপূরক।বাংলাদেশে ভেজাল খাদ্য এবং নিম্নমানের পণ্যের বিরুদ্ধে লড়াই নতুন নয়। প্রতি বছরই বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালিত হয়, জরিমানা হয়, প্রতিষ্ঠান সিলগালা হয় এবং জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু কয়েক মাস পর আবারও একই অভিযোগ সামনে আসে। এই পুনরাবৃত্তি আমাদের বলে দেয়, সমস্যা কেবল মাঠপর্যায়ের অভিযানে নয়; এর শিকড় আরও গভীরে।একদিকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে, অন্যদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অনেক সময় জনবল, প্রযুক্তি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়। আধুনিক পরীক্ষাগারের অভাব, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ঘাটতি, মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কার্যক্রমকে দুর্বল করে দেয়। ফলে আইনের কঠোরতা থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি আসে না। এই বাস্তবতায় উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, কমিটি গঠন কখনোই চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং এটি সমাধানের প্রথম ধাপ। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সুপারিশ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা সক্ষমতা অর্জন করে এবং জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত হয় তার ওপর।রাষ্ট্রের একটি বড় দায়িত্ব হলো সৎ ও অসৎ ব্যবসায়ীর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করা। যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করেন, তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আর যারা মানুষের জীবন নিয়ে প্রতারণা করে, তাদের বিরুদ্ধে এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ একই অপরাধ করার সাহস না পায়। আইনের শাসনের মূল শক্তি এখানেই।তবে শুধু সরকার বা প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও চলবে না। সমাজের প্রতিটি মানুষেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। আমরা অনেক সময় নিজের অজান্তেই এমন কাজ করি, যা সামষ্টিকভাবে দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা, খাদ্য কেনার সময় মান যাচাই না করা, অনিয়ম দেখেও নীরব থাকা কিংবা অল্প লাভের আশায় অনৈতিক পথকে গ্রহণযোগ্য মনে করা—এসব আচরণ ধীরে ধীরে একটি অসুস্থ সামাজিক সংস্কৃতি তৈরি করে।প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেকে আবর্জনা ফেলার উদাহরণ দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। নাগরিক সচেতনতা কেবল বক্তৃতার বিষয় নয়; এটি প্রতিদিনের অভ্যাস। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে কঠোর আইন যেমন রয়েছে, তেমনি নাগরিকদের মধ্যেও রয়েছে আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ। আইন সেখানে শেষ ভরসা; প্রথম ভরসা মানুষের বিবেক।বাংলাদেশেও সেই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—সবাইকে সচেতনতা তৈরির কাজ করতে হবে। শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই সততা, পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক দায়িত্বের শিক্ষা পায়, তাহলে ভবিষ্যতে সে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে উঠবে।এখানে গণমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে মানুষকে নিয়মিত তথ্য দেওয়া একটি বড় সামাজিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ এবং দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিও হতে পারে বড় সহায়ক। অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, উন্নত পরীক্ষাগার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভেজাল ও অনিয়ম অনেক দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসনের দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনি দুর্নীতির সুযোগও কমবে।একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার—উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ শুধু জিডিপির প্রবৃদ্ধি নয়। একজন সাধারণ মানুষ যদি নিশ্চিন্তে বিশুদ্ধ খাদ্য কিনতে না পারেন, নিরাপদ পণ্য ব্যবহার করতে না পারেন কিংবা আইনের সমান সুরক্ষা না পান, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জননিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।রাষ্ট্র ও নাগরিক—দুই পক্ষের মধ্যে একটি পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠা জরুরি। সরকার যদি জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করে এবং নাগরিক যদি আইন মেনে দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তাহলে উন্নয়নের গতি বহুগুণ বাড়বে। কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই পরিবর্তন আনতে পারবে না; এটি হতে হবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।আজ বাংলাদেশের সামনে যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দক্ষ প্রশাসন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সর্বোপরি সচেতন নাগরিক সমাজ। এই পাঁচটি উপাদান একসঙ্গে কাজ করলেই একটি নিরাপদ, মানবিক এবং টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।দেশ গঠনের দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়, কেবল প্রশাসনেরও নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকেরও। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করি, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিই এবং আইনকে সম্মান করি, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। একটি উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন তখন আর কেবল স্বপ্ন থাকবে না—তা বাস্তবতার দৃশ্যমান রূপ নেবে।রাষ্ট্রের শক্তি তার অস্ত্রে নয়, তার নাগরিকের চরিত্রে। আর সেই চরিত্র গঠনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো সচেতনতা, সততা এবং দায়িত্ববোধ। বাংলাদেশের আগামী দিনের পথচলায় এই তিনটি মূল্যবোধই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।

–লেখক
☞রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান
(বিশিষ্ট লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দেশবরেণ্য কলামিস্ট)

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST