মিঠামইন প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে পুকুর খন ও মাটি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও মিঠামইন উপজেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, মিঠামইন উপজেলার হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন তিনি তার নিজ গ্রাম হোসেনপুরের এই বিদ্যালয়ের দায়িত্বে আছেন। তিনি হোসেনপুর গ্রামের মৃত রুহুল আমিন মাস্টারের ছেলে।
ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী হোসেনপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নং ১০, দাগ নং ২০১৯, শ্রেণী “নামা” জমিটি হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত। অভিযোগকারী জমিদাতা মো. আবু হানিফ ভূঁইয়া জানান, প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বিদ্যালয়ের এই জমির ৪৮ শতাংশ মাটি কেটে পুকুর করেছেন এবং খন করা মাটি তিনি নিজের বসতবাড়িতে নিয়ে গেছেন।
এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রাথমিকভাবে ভুল স্বীকার করেন।তখন পুকুর ভরাট করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। কিন্তু পরে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন সেই প্রতিশ্রুতি রাখেননি বরং বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করাই
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জমিদাতা মো. আবু হানিফ ভূঁইয়া ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মিঠামইন উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে প্রথম লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার ব্যবস্থা না নেওয়ায় ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর দ্বিতীয় দফা লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারী জানান, প্রায় ৭ মাস অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি
অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, “পুকুর করার বিষয়টি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির লোকজনকে জানিয়ে করা হয়েছে। তখন তাদের কোন আপত্তি ছিল না।
এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে পুকুর ভরাট করে স্কুলের ৪৮ শতাংশ জমি উদ্ধার এবং প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।