নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় জোসনা বেগম (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-১ এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাতে নিকলী উপজেলার বড়কান্দা গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন— বড়কান্দা গ্রামের মালি হোসেনের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (নিহতের স্বামী), রহিম মিয়া, আম্বিয়া এবং লতু উদ্দিনের ছেলে মাহবুব ওরফে কাশেমসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন।
যৌতুকের দাবি ও নির্যাতন
পাকুন্দিয়া উপজেলার ঘাগড়া এলাকার লিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে জোসনার সাথে নিকলীর বড়কান্দা গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের বিয়ে হয়। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই গিয়াস উদ্দিন বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য জোসনাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন এবং মারধর করতেন। সংসারের শান্তির কথা চিন্তা করে জোসনা একাধিকবার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে স্বামীকে দিয়েছেন। সম্প্রতি গিয়াস উদ্দিন জোসনাকে তার বাবার বাড়ির ওয়ারিশের জমি বিক্রি করে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু জোসনা তাতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ এপ্রিল রাতে তাকে হত্যা করে ঘরের ধরণার (আড়া) সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তথ্য গোপন ও তড়িঘড়ি করে দাফনের অভিযোগ
নিহতের আত্মীয় জিল্লুর রহমান জানান,
”জোসনাকে ১৩ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে হত্যা করা হলেও, গিয়াস উদ্দিনের লোকজন আমাদের পরের দিন সকালে ফোন করে জানায় সে আত্মহত্যা করেছে। আমরা সকালে থানায় গেলেও আমাদের লাশ দেখতে দেওয়া হয়নি।”
আরেক আত্মীয় রহিমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
”হাসপাতাল থেকে লাশ সরাসরি কবরস্থানে নিয়ে তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়েছে। এমনকি জোসনাকে শেষ গোসল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। আমাদের (বাবার বাড়ির লোকজনকে) লাশ দেখতে দেওয়া হয়নি এবং পাকুন্দিয়ায় তার নিজ গ্রামেও লাশ দাফন করতে দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত জোসনার সন্তানদের সাথেও আমাদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।”
অতীতেও রয়েছে অনুরূপ অভিযোগ
এলাকাবাসীর বরাতে নিহতের আত্মীয়দের আরও অভিযোগ, গিয়াস উদ্দিন জোসনাকে বিয়ে করার আগে নিজ এলাকায় আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। সেই স্ত্রীকেও একইভাবে হত্যা করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলে এলাকায় প্রবল গুঞ্জন রয়েছে।