লেখাঃ রেহানা ফেরদৌসী
প্রতি বছর ৭ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। ১৯৪৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর প্রতিষ্ঠা দিবসটি উদযাপন শুরু করে এবং ১৯৫০ সাল থেকে প্রতিবছর একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে মানুষের স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন।বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৭ মিলিয়ন মানুষ বায়ু দূষণের কারণে মারা যায়।জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বেড়েই চলেছে, প্রতি ৮ জনে ১ জন মানসিক রোগে ভুগছে।
এমতাবস্থায় ২০২৫ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল ভাবনা ছিল—”জন্ম হোক সুরক্ষিত, ভবিষ্যৎ হোক আলোকিত”, যা মূলত মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে।বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য এবং প্রধান স্বাস্থ্য উদ্বেগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দিবসটি পালিত হয়।সুস্থ পরিবার সমাজের ভিত্তি, আর এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি মানুষের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।২০২৬-এর প্রতিপাদ্য বিষয় “Together for health. Stand with science”, বা “সুস্থতার জন্য একসাথে—বিজ্ঞানের উপর আস্থা রাখি”— যা প্রমাণের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশের সাথে মানব স্বাস্থ্যের সম্পর্কের ওপর জোর দেয়। একটি সমাজ তখনই সত্যিকার অর্থে সুস্থ থাকে, যখন সবাই একসাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, একে অপরকে সচেতন করে এবং সহযোগিতা করে। যেমন—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিয়মিত টিকা নেওয়া, রোগ হলে চিকিৎসা নেওয়া—এসব বিষয় একসাথে করলে পুরো সমাজ উপকৃত হয়।স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয়তা সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হলে শুধু বিনিয়োগ নয়, বরং স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দূর করতে হবে।বিগত সময়ে স্বাস্থ্য খাতে যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে, তা দূর করে টেকসই ও সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে সকলকে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।পাশাপাশি গুজব বা ভুল তথ্যের পরিবর্তে সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা,ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে চলা,পরীক্ষিত ও প্রমাণিত ওষুধ ও টিকা গ্রহণ করা এই নিয়মগুলো সকলকেই মেনে চলতে হবে।সুস্থতা অর্জনের জন্য আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা সকলের জন্য কল্যাণকর হবে।যেমনঃবায়ু ও পানি দূষণ কমাতে হবে। গাছ লাগানো, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন করতে হবে।স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। ফল, সবজি, এবং শস্য খেতে হবে বেশি করে।নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে।মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, এবং সামাজিক সংযোগ বাড়াতে হবে।নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় টিকা নিতে হবে ।বাংলাদেশে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে যা অত্যন্ত ইতিবাচক!
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাস্থ্যই সম্পদ। আসুন, সুস্থ জীবনযাত্রার অভ্যাস গড়ি, সঠিক পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখি,পরিবার ও সমাজের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় এগিয়ে আসি এবং একটি সুস্থ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।