তৌকির আহাম্মেদ হাসু, স্টাফ রিপোর্টার:
রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা ও ঘরছাড়া জীবনের দীর্ঘ প্রতিকূল অধ্যায় পেরিয়ে উঠে আসা জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জনপ্রিয় নেতা, সংসদীয় আসন ১৪১—জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন থেকে বিপুল ভোটে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম-কে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে জেলাজুড়ে জোরালো দাবি উঠেছে। সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—তাকে মন্ত্রীপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হোক।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে শামীম তালুকদার দুই শতাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়েছেন এবং কারাবরণও করেছেন। দুঃসময়ে গ্রেপ্তার এড়াতে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানো, অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন-রাত কাটানো—এসব কঠিন বাস্তবতা তার রাজনৈতিক জীবনকে করেছে আরও দৃঢ় ও আপসহীন।বাধা-বিপত্তি তাকে রাজপথ থেকে সরাতে পারেনি; বরং জেলা ও উপজেলার প্রতিটি দলীয় কর্মসূচিতে তিনি থেকেছেন সম্মুখ সারিতে।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা
শামীম তালুকদারের রাজনৈতিক পরিচয়ের পেছনে রয়েছে সমৃদ্ধ পারিবারিক ঐতিহ্য। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী, প্রয়াত আব্দুস সালাম তালুকদার-এর ভাতিজা। দলীয় নেতাদের মতে, এই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা তার নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।ছাত্ররাজনীতি থেকে তার উত্থান। পর্যায়ক্রমে সরিষাবাড়ী পৌরসভার চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি সংগঠনকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করান। পরবর্তীতে টানা তিনবার জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সাংগঠনিক দক্ষতা ও দৃঢ়তার পরিচয় দেন।
তার নেতৃত্বে জেলায় দলীয় কার্যক্রমে নতুন গতি আসে, তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী হয় এবং আন্দোলনমুখী রাজনীতিতে দৃশ্যমান সক্রিয়তা তৈরি হয়। কর্মীবান্ধব মনোভাব, মানবিক নেতৃত্ব ও ন্যায়ভিত্তিক অবস্থানের কারণে তিনি দ্রুতই জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হন।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর জাতীয়তাবাদী দর্শন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নীতি ও আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। তাদের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাকেই তিনি তার সংগ্রাম ও নেতৃত্বের প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে দলীয় নেতারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার জনপ্রিয়তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। ১৪১—জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি সংসদীয় আসনের ৮৮টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতেই বিজয় লাভ করেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়ে তিনি জেলায় এক অনন্য নির্বাচনী রেকর্ড গড়েন—যা তার শক্ত গণভিত্তিরই প্রতিফলন।
সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক ও সরিষাবাড়ী কলেজের প্রভাষক খায়রুল আলম শ্যামল বলেন,প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের জনপদ সরিষাবাড়ী যমুনা সার কারখানা ও পাটশিল্পের জন্য বিখ্যাত। হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমরা শামীম তালুকদারকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।
সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাসুম আহমেদ বলেন,প্রতিকূল সময়েও তিনি মাঠে ছিলেন, মানুষের পাশে থেকেছেন। তিনি মন্ত্রী হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা রাখেন।
সরিষাবাড়ী পৌরসভার স্টোরকিপার হুমায়ুন কবীর শ্যামল বলেন,যোগ্যতা, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার অপর নাম শামীম তালুকদার। তিনি মন্ত্রী হলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে।”
সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা সংস্থার পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খোকন বলেন,চরাঞ্চল ও অবহেলিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আজিম উদ্দিন আহমেদ জানান, দীর্ঘ ত্যাগ, দুঃসময়ের সাহসী ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ব্যালটের বিপুল জনসমর্থন—সব মিলিয়ে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এখন জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার মতো পরিণত নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন।
জামালপুরবাসীর এখন একটাই প্রত্যাশা—রাজপথে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও জনপ্রিয় এই নেতাকে মন্ত্রীসভায় দেখতে চান তারা, জাতীয় নেতৃত্বের অগ্রসারিতে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, তার নেতৃত্বে উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও সংগঠনের শক্ত ভিত আরও সুসংহত হবে এবং সরিষাবাড়ীসহ জামালপুর পাবে নতুন সম্ভাবনার দিশা।