বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ময়মনসিংহ বিতরণ অঞ্চলের আঞ্চলিক হিসাব দপ্তরের (আহিদ) উপ-পরিচালক (হিসাব) মোঃ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি, ফাইল আটকে ঘুষ বাণিজ্য এবং স্বৈরাচারী কায়দায় দপ্তর পরিচালনার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তবে সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই পুরো দুর্নীতির সাম্রাজ্য একা নয়; বরং ময়মনসিংহের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এবং তৎকালীন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বর্তমানে ঢাকার চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত)-এর প্রত্যক্ষ মদদ, আশীর্বাদ ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই এই অনিয়মগুলো বছরের পর বছর ধরে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়ে আসছে।
ময়মনসিংহের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও বর্তমান ঢাকার চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান দপ্তরে নিজের ইচ্ছামতো লুটপাট ও বদলি বাণিজ্য চালাতে গিয়ে ময়মনসিংহের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বর্তমানে ঢাকার চিফ ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্বে আছেন)-এর সাথে দুর্নীতির এক শক্তিশালী অশুভ জোট গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইল অনুমোদন, ঠিকাদারি বিল পাস এবং পছন্দের জায়গায় পোস্টিং টিকিয়ে রাখতে এই শীর্ষ দুই প্রকৌশলীর নাম ভাঙিয়ে আসাদুজ্জামান দেদারছে ঘুষ ও অর্থ আদায় করে থাকেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ময়মনসিংহে বদলি হয়ে আসার জন্য উধ্বর্তন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উপ-সচিবকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ দিতে হয়েছে বলে আসাদুজ্জামান নিজে প্রকাশ্যে দাবি করেন। আর সেই ঘুষের টাকা ময়মনসিংহের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও বর্তমান ঢাকার চিফসহ উর্ধ্বতন মহলের সাথে ভাগাভাগি করেই কর্মচারীদের ফাইল আটকে ‘সুদে-আসলে’ উসুল করা হয়।
বেতন খাতে কর্মচারীদের ফাইল আটকে ‘সুদে-আসলে’ উসুল করা হয়। বেতন খাতের তহবিল থেকে অবৈধ ঠিকাদারি বিল পরিশোধ হিসাব দপ্তরের আর্থিক বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি
দেখিয়ে আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় সরকারি অর্থ তছরুপ করে আসছেন। সাধারণত মাসিক বেতন বাবদ যে বরাদ্দ আসে, তাঁর থেকে খরচ বাদ দিয়ে উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যাংকের বেতন হিসেবে জমা থাকার কথা ।কিন্তু আসাদুজ্জামান বেতনের সেই ব্যাংক তহবিলের টাকা থেকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে ঠিকাদারের বিল মিটিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতিয়ে নেন।এছাড়া তিনি অতিরিক্ত পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ভুয়া বিল – বাউচার এবং কর্মচারীদের নামে জাল ভ্রমণ বিল তৈরি করে লক্ষ লক্ষ সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ।যার নেপথ্যেও ছিল শীর্ষ প্রকৌশলীদের নীরব সম্মতি ।প্রতিবাদের শাস্তি: দূর-দূরান্তে বদলি ও হয়রানি এই দুর্নীতির সিন্ডিকেটের অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই কর্মকর্তা – কর্মচারীদের ওপর নেমে আসে খড়গ। দপ্তরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে একের পর এক অন্যায় বদলি করা হয়েছে: অসুস্থ আলমগীর সাহেব: চাকরির মেয়াদ মাএ দুই মাস বাকি থাকা সত্ত্বেও, আসাদুজ্জামানের দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় সহকারী হিসাবরক্ষক অসুস্থ আলমগীর সাহেবকে চরম অমানবিক ও নিয়মবহির্ভূত ভাবে ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশনে বদলি করা হয়। সহকারী হিসাবরক্ষক মোহিত: প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর দমনে সহকারি হিসাবরক্ষক মোহিতকে প্রথমে জামালপুর এবং পরবর্তীতে গফরগাঁওয়ে বদলি করে হয়রানি করা হয়। হিসাবরক্ষক মোস্তফা: হিসাবরক্ষক মুস্তফাকেও নানা উপায়ে প্রতিনিয়ত চাকরিচ্যুত করার হুমকি ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ফলে ময়মনসিংহ আহিদ দপ্তরের সৎ কর্মচারীরা প্রধান প্রকৌশলী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বর্তমানে ঢাকার প্রধান প্রকৌশলী) ও অনুসারী এই সিন্ডিকেটের কাছে সম্পূর্ণ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ৩০ বছরের একই দপ্তরে অবস্থান ও কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে একই দপ্তরে নানা কৌশলের শিকড় গেড়ে বসে আছেন আসাদুজ্জামান।১। এ বিষয়ে সংবাদকর্মীর কাছে একজন ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত মকবুল হোসেন লাইনম্যান বি, কিশোরগঞ্জ তিনি বলেন আমার চাকরির চূড়ান্ত কিলারেন্স জন্য ময়মনসিংহ আহিদ দপ্তরে গেলে আমাকে প্রায় দুই মাস হয়রানি করেছেন। ২।মোঃ খুরশিদ উদ্দিন এসবিএ সি, (পিআরএল ভুক্ত) তিনি বলেন আসাদুজ্জামান কিশোরগঞ্জ কর্মরত থাকা অবস্থায় তাহার কিছুই ছিল না। সে এখন ঘুষ দুনীর্তি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ৩। নাম প্রকাশের অনিচ্ছু একজন ঊধ্বতর্ন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরে ক্যাশিয়ারগন বলেছেন আসাদুজ্জামান দুর্নীতি ঘুষ বাণিজ্য করে অনেক অবৈধ সম্পদ করেছেন। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বর্তমানে ঢাকার চিফ ইঞ্জিনিয়ার-এর প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় চলা এই নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক) ও পিডিবি চেয়ারম্যানের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল । দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২৯/১০/২৬ তারিখে একটি অনুসন্ধান নিউজ করা হয়। সেই নিউজের দৈনিক ৭১ গোয়েন্দা সংবাদ জেলা প্রতিনিধি ও বিশেষ প্রতিনিধি এবং কালের নতুন সংবাদ প্রতিনিধি তাকে বিভিন্ন লোক মারফতে দুর্নীতিবাজ আসাদুজ্জামান প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।