নিজস্ব প্রতিবেদক:
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলাধীন চন্দ্রগাতী এলাকায় অবস্থিত “কেন্দুয়া সালমা ইসলাম প্রতিবন্ধী একাডেমী” নামে বিদ্যালয়টি ২০১৬ সালে স্থাপিত করেন-কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের নারী নেত্রী ও ততকালীন নেত্রকোনা-৩, কেন্দুয়া-আটপাড়া আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী সালমা আক্তার।
এ প্রতিষ্ঠানটির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা মধ্যপাড়া গ্রামের মো: আনার খান ও তার স্ত্রী হেনা আক্তার। লাখ লাখ টাকার প্রতারণার ফাঁদ থেকে নিজেদের বাঁচাতে কেন্দুয়া থানায় চলতি মাসে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো: আনার খান।
অভিযোগ মারফত জানা যায়, “কেন্দুয়া সালমা ইসলাম প্রতিবন্ধী একাডেমী”তে আয়া পদে কর্মরত রয়েছেন উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা মধ্যপাড়া গ্রামের রাজ আলী খানের ছেলে দরিদ্র কৃষক, ভুক্তভোগী মো: আনার খানের স্ত্রী হেনা আক্তার।
এ দিকে হঠাৎ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক সরকারি বেতন ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে আনার খান ও হেনা আক্তার দম্পতির জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করে ওই বিদ্যালয়ের সাথে জড়িত হিরামনি ও সাইদুল ইসলাম ওই দু’জন আনার খান ও হেনা আক্তারের নামে ব্যাংক হিসাব খুলিয়ে আনার খান ও হেনা আক্তারের একাউন্টে বিভিন্ন সময়ে ৪৫ লাখ ৩২ হাজার ৯’শ ৮৫ টাকা লেনদেন করেন, যা ভুক্তভোগীদ্বয় কিছুই জানেন না। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর আনার খান আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
এ প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট দুইজন হিরামনি ও ডাক্তার সাইদুল ইসলাম মিলে আনার খানের স্ত্রী ও পরিচিত এক নারীকে সরকারি কোষাগারের বেতন-ভাতা করিয়ে দিবে বলে আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখান। তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য হাতিয়ে নেয়। এ সব তথ্য ব্যবহার করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কেন্দুয়া শাখা ও কিশোরগঞ্জ শাখায় বেতন-ভাতা উত্তোলনের হিসাব খোলা হয়। ভুক্তভোগী আনার খানের হিসাব নম্বর: ২৩১১০৫০০৩৭৯৬৯ এবং তার স্ত্রী হেনা আক্তারের হিসাব নম্বর: ২৪১১০৫০০৬৯৭৬৭-এ পরবর্তীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে তারা ব্যাংক থেকে জানতে পারেন। লেনদেনের পরিমাণ আনার খান একাউন্টে ২১ লাখ ২৩ হাজার ৮’শ ৯৫ টাকা এবং তার স্ত্রী হেনা আক্তারের একাউন্টে ২৪ লাখ ৯ হাজার ৯’শ ৯ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেন করা হয়েছে। তবে, এ-সব লেনদেন সম্পর্কে তিনি ও তার স্ত্রী কিছুই জানেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। তিনি আশঙ্কা করে বলেন, তাদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে ভবিষ্যতে এর সকল দায় তাদের ওপর বর্তাতে পারে। এতে তারা সামাজিক ও আইনগত সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থ লেনদেনের আগে ওই প্রতারকদের নিম্নে এই ০১৫৭৬৬৫৪১৮৫, ০১৬০৪২৫৭৬৩৯, ০১৬০৪৮৪৪৩৮৮, ০১৬০৩২৮৯৩৪০ নম্বরের মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ করিলেও অভিযোগ বা বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে নম্বরগুলো বন্ধ রয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের দিঘলী দিপাড়া গ্রামের আবুল কালামের কন্যা হিরামনি, চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা চংনোয়াগাঁও গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ডাক্তার সাইদুল ইসলাম।
এ বিষয়ে প্রতীয়মান রয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃত প্রথম সারীর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ’কে ব্যবহার করেন-
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক সুকৌশল অবলম্বন করে আজকের অভিযোগে যারা নাকি প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত রয়েছেন মুলতঃ তাদেরকে দিয়েই ইউনিসেফ এর বড় বড় কর্মকর্তা বানিয়ে সুষ্ঠু মস্তিষ্কে একটি চক্র তৈরি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।
অত্র বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে প্রতারণা চক্র তৈরি করে আইসিডিডিআরবি ও ইউনিসেফ এর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইউনিসেফ কর্তৃক প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি বরাবর নিজেরাই চিঠি ইস্যু করে শিক্ষক কর্মচারীদের চিঠি দেখিয়েছে। এমনকি কয়েকজন শিক্ষক কর্মচারীদের মাসিক বেতনও প্রদান করেন, বাকীরা বেতন পাবে এমনি করে আরও বড় আকারে অর্থ আদায় করার জন্য পাঁয়তারা করতে গিয়ে সত্য ঘটনা প্রকাশ পায়। এমন ধরনের জাল জালিয়াতি করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা প্রতীয়মান রয়েছে।
এই বিদ্যালয়ে শুধু এই ৪৫ লাখ টাকার প্রতারণা নয় এরচেয়ে আরও বড় ধরনের অর্থ কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা রয়েছে। ইউনিসেফের ওই দুই প্রতারক ও সালমা আক্তার ওরফে সালমা ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ভূক্তভোগীরা।
এদিকে অভিযুক্তদের মোবাইল নম্বর একাধিকবার কল দিলেও নম্বরগুলো বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়টি জানতে কেন্দুয়া সালমা ইসলাম প্রতিবন্ধী একাডেমী’র প্রধান শিক্ষক মো. মাজহারুল ইসলাম মামুনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।