নিজস্ব প্রতিবেদক :
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর বাজারের ছাগল মহল এলাকা থেকে আগরপুর বাজারসংলগ্ন স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজে বৃষ্টির মধ্যেই পিচ ঢালাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর তত্ত্বাবধানে চলমান এ কাজ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বৃষ্টির মধ্যে এভাবে কাজ করায় সড়কটির স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মঙ্গলবার বৃষ্টি চলাকালেই সড়কের বিভিন্ন অংশে বিটুমিনাস কার্পেটিং (পিচ ঢালাই) করা হয়। বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও রাস্তার ওপর পানি ও আর্দ্রতা থাকা অবস্থাতেই নির্মাণকাজ চলতে দেখা যায়। এ সময় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বৃষ্টির মধ্যে পিচ ঢালাই করায় নতুন কার্পেটিংয়ের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, নিম্নমানের কাজের কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই পিচ উঠে যাওয়া, ফাটল সৃষ্টি কিংবা গর্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা সড়কটি প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্মাণ এবং পুরো কাজের কারিগরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকৌশল সংশ্লিষ্টদের মতে, হট মিক্স বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের ক্ষেত্রে রাস্তার পৃষ্ঠ সাধারণত শুকনো ও পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। ভেজা বা পানিযুক্ত পৃষ্ঠে বিটুমিনের সঙ্গে রাস্তার যথাযথ বন্ধন (Bond) তৈরি ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে পিচের মিশ্রণের তাপমাত্রা দ্রুত কমে গেলে প্রয়োজনীয় কম্প্যাকশন ঠিকভাবে হয় না। এর ফলে স্তরগুলোর মধ্যে সংযোগ দুর্বল হয়ে পিচ উঠে যাওয়া (Stripping), ফাটল সৃষ্টি, গর্ত (Potholes) এবং রাস্তার আয়ুষ্কাল কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে নির্দিষ্ট এই কাজে প্রকৌশলগত মানদণ্ড লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি পরিদর্শন ও পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সারাদেশে চলমান বর্ষার মধ্যেও কোটি টাকার সড়ক সংস্কারকাজে যথাযথ তদারকি না থাকায় সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, কাজের মান নিশ্চিত না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জনগণের ভোগান্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রের অর্থও অপচয় হবে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী বনি আমিনকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরবর্তীতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীর তদারকি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে কোনো কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।