নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের ঝিকরজোড়া এলাকায় একটি পুকুরের সীমানা নির্ধারণ ও মুরগির খামার নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে পাল্টা-পাল্টি দাবি ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এক পক্ষের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে অন্য পক্ষের কারাবাসের ঘটনা ঘটলেও, মামলার এজাহারের তারিখ এবং খামার প্রতিষ্ঠার সপক্ষের নথিপত্র নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝিকরজোড়া এলাকার মৃত আব্দুর রহিম মেম্বারের দুই মেয়ের জমি বন্টন হলেও বিরোধপূর্ণ স্থানটি মূলত একটি পুকুর হওয়ায় বাস্তবে দাগ অনুযায়ী ভাগ করা সম্ভব ছিল না। এই বাস্তবতার কারণে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে পুকুরটিকে দুই ভাগ করে উভয় পক্ষকে অংশ বুঝিয়ে দেন। শালিসের সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাছির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তার অংশে একটি মুরগির খামার নির্মাণ করেন।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, প্রতিপক্ষ হারুন-অর-রশিদ তার মামলার এজাহারে দাবি করেছেন—তিনি ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই একটি ‘হেবা দলিল’ মূলে ওই জায়গার মালিক হন এবং ১৫ আগস্ট বাছির উদ্দিন লাঠিসোটা নিয়ে তাকে উক্ত জায়গা থেকে উচ্ছেদ করেন।
আইনি প্রক্রিয়ায় বিবাদী পক্ষের উপস্থাপিত নথিপত্র ও মালামাল ক্রয়ের রসিদ অনুযায়ী, বাছির উদ্দিন খামার ঘর তৈরির মালামাল ক্রয় করেছেন ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল এবং খামারে মুরগির বাচ্চা উঠানো হয়েছে একই বছরের ১৫ জুন। বিবাদী পক্ষের দাবি, বাদী পক্ষ দলিল মূলে মালিকানা দাবি করার এবং কথিত উচ্ছেদের ঘটনার অন্তত দুই থেকে তিন মাস আগেই সেখানে খামার নির্মাণ সম্পন্ন হয় এবং মুরগি ডিম দেওয়া শুরু করে। ফলে আগস্ট মাসে উচ্ছেদের যে দাবি এজাহারে করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার ও জালাল উদ্দীন বলেন, স্থানটি পুকুর হওয়ায় দাগে দাগে বন্টন সম্ভব ছিল না। তাই গ্রাম্য শালিসে উভয় পক্ষকে সমপরিমাণ অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে জমির দাগ নম্বরের সূত্র ধরে নতুন দলিল হওয়ায় এই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, উক্ত মামলায় বাছির উদ্দিনের মাদরাসাপড়ুয়া ছেলে তামিমকেও আসামি করা হয়েছিল। তবে ঘটনার সময় তামিম মাদরাসায় উপস্থিত ছিল মর্মে হাজিরা খাতার ফটোকপি ও শিক্ষকদের সাক্ষ্য পিবিআইয়ের (PBI) কাছে উপস্থাপনের পর তদন্তকারী সংস্থা মামলার নথি থেকে তার নাম বাদ দেয়। বিবাদী পক্ষের দাবি, কিশোরগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনেও (স্মারক নং-৩৩.০২.৪৮৪৯.৫০১.৪৫.০০১.২৬.২৮) ঘটনার বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। তবে পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের (স্মারক নং-৪৯৬৭/২০২৫) কিছু তথ্যের বিষয়ে স্থানীয়দের একাংশের দ্বিমত রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হারুন-অর-রশিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আজ মামলার তারিখ আছে, এখন কোর্টে চলে যাচ্ছি। পরে কথা বলব।”