1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কুলিয়ারচরে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা কেন্দুয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত মধুপুরে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেফতার ছয় মাস পর খোলা হলো পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলল ৪৩ বস্তা টাকা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আমের নতুন অর্থনৈতিক বিপ্লব
 সংবাদপত্র আর সাংবাদিকতা শেকলে বন্দি: ইঞ্জিনিয়ার মু. মহিউদ্দিন বেলাবো উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বারৈচা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বর্জ্য পরিচ্ছন্ন অপসারণ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় বৈশ্বিক সহায়তা রাজারহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাদক সেবির ৬ মাসের জেল-জরিমানা মাদকের আগ্রাসনে বিপন্ন পরিবার ও সমাজ: রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়
শিরোনাম
কুলিয়ারচরে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা কেন্দুয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত মধুপুরে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেফতার ছয় মাস পর খোলা হলো পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলল ৪৩ বস্তা টাকা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আমের নতুন অর্থনৈতিক বিপ্লব
 সংবাদপত্র আর সাংবাদিকতা শেকলে বন্দি: ইঞ্জিনিয়ার মু. মহিউদ্দিন বেলাবো উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বারৈচা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বর্জ্য পরিচ্ছন্ন অপসারণ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় বৈশ্বিক সহায়তা রাজারহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাদক সেবির ৬ মাসের জেল-জরিমানা মাদকের আগ্রাসনে বিপন্ন পরিবার ও সমাজ: রুখে দাঁড়ানোর এখনই সময়

মজার মানুষ গোপাল ভাঁড়

  • প্রকাশ কাল সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৭৯ বার পড়েছে

রেহানা ফেরদৌসী

গ্রাম বাংলার গল্পে,কাহিনীতে গোপাল ভাঁড়ের গল্প প্রায়শই শোনা যায়। আমি নিজেও গোপাল ভাঁড়ের গল্প শুনেই বড় হয়েছি।গোপাল ভাঁড় এর বুদ্ধিদীপ্ত গল্প গুলো হাস্যকরই নয়, শিক্ষনীয় বটে!

ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাংলা সাহিত্যে গোপাল ভাঁড়ের নাম সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। তাঁর আসল নাম গোপাল চন্দ্র প্রামাণিক।তিনি ছিলেন সৎ ও বুদ্ধিমান।
কথিত আছে, কৃষ্ণনগরের উত্তর দিকে ঘুর্নি নামের এক গ্রামে গোপাল ভাঁড়ের জন্ম। গোপাল ভাঁড়ের আসল বাড়ি নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না, তবে ধারণা করা হয় তিনি নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে থাকতেন। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল থাকার কারণে তাঁর লেখাপড়া করার সুযোগ হয়নি। কিন্তু অল্পশিক্ষা আর তাঁর নিজের অসীম বুদ্ধি ও প্রতিভার গুনেই তিনি আজও বাচ্চা বুড়ো সকলের মনে স্থান করেছেন। গোপাল যখন মাত্র নয় বছর বয়স তখন তাঁর বাবা মারা যান এবং তাঁর মা স্বামীর চিতায় সহমরণে আত্মাহুতি দেয়। তার বড় ভাইকে দাসত্বে বাধ্য করা হয় এবং তাকে একটি ডাকাতদল অপহরণ করে। অবশেষে, একজন ভদ্রমহিলা তাকে লালন-পালন করেন এবং যৌবনে গোপাল পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর রাজদরবার এ ভাঁড় হিসেবে নিযুক্ত হন।

কথায় বলে নাপিতরা ধূর্ত হয়। গোপালরা জাতিতে নাপিত ছিলেন। গোপাল অসম্ভব ধূর্ত ছিলেন কিন্তু তাঁকে কখনোই নাপিত বলা চলে না। তাঁর অসম্ভব বুদ্ধিমত্তা তকে শ্রেষ্ঠ ভাঁড় রূপে পরিচিতি দিয়েছে। তাই তিনি গোপাল ভাঁড়।

গোপাল ভাঁড় ছিলেন হিন্দু ধর্মের অনুসারী। নদীয়ার সম্রাট মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নানা লোকের মুখে গোপালের রসিকতা ও বুদ্ধিসত্তার কথা শুনে তাঁকে রাজসভায় স্থান দিয়েছিলেন। সেই থেকে গোপালের পরিচিতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার অসামান্য অবদানের জন্য রাজা ও রাণী উভয়েই তাকে পছন্দ করতেন। বুদ্ধি ও সৎ সাহস থাকার কারণে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে তাঁর সভাসদদের মধ্যকার নবরত্নদের একজন বা বিশেষ সভাসদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। সেই আমলে রাজা কৃষ্ণ চন্দ্র রায় এর প্রাসাদের সামনে নির্মিত তাঁর একটি ভাস্কর্য এখনো সেখানে অবিকৃত অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তীতে কৃষ্ণনগর পৌরসভার সীমানায় ঘূর্ণীতে গোপাল ভাঁড়ের নতুন মূর্তি স্থাপিত হয়েছে।
তবে গোপাল ভাঁড়ের নাম ইতিহাসের কোথাও উল্লেখ নেই। তার অস্তিত্ব আদৌ ছিল কিনা এই বিষয়ে কেউ সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। কিন্তু, একটি উৎসে পাওয়া গেছে যে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এবং শহরের সুরক্ষা ইনচার্জ শঙ্কর তরঙ্গের একজন সম্মানিত এবং পুরানো দেহরক্ষী ছিল যাকে তার সাহস এবং জ্ঞানের জন্য রাজা বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিলেন এবং সম্ভবত এটিই গোপাল ভাঁড়ের কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছিল। তার অস্তিত্ব নিয়ে অনেক পরস্পরবিরোধী মতামত থাকলেও তার গল্পগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে এবং তাকে নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই।

আচার্য সুকুমার সেন অভিমত দেন যে, “গোপাল চরিত্রটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। তবে কিছু সূত্র দাবি করেছে যে গোপাল একজন সত্যিকারের চরিত্র ছিল।”
গোপাল ভাঁড়ের ফাঁসি হওয়ার ঘটনাটি মূলত একটি লোককাহিনী এবং ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কিংবদন্তী অনুসারে, নবাব সিরাজউদ্দৌলার দরবারে গোপাল ভাঁড় তার হাস্যরসের মাধ্যমে সকলের মনোরঞ্জন করতেন। একবার তিনি নবাবের সভাসদদের নিয়ে একটি কৌতুক করেন, যা নবাবের অপছন্দ হয় এবং এর ফলস্বরূপ নবাব তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে, এই ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। অনেক ইতিহাসবিদের মতে,তার ফাঁসির ঘটনাটি নিছকই একটি গল্প।
গোপাল ভাঁড়ের বংশধর বলতে সাধারণত তার সৃষ্ট গল্প ও কৌতুকগুলোর মাধ্যমেই তার স্মৃতি বহন করা হয়। তার গল্পগুলো আজও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। তাছাড়া গোপাল ভাঁড় নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের মানুষের কাছে তিনি আজও পরিচিত।
গোপাল ভাঁড়ের গল্পগুলো কোনো একক ব্যক্তির লেখা নয়। এটি লোকশ্রুতি এবং লোককথার মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। তাঁর গল্পগুলো আজও মানুষের কাছে জনপ্রিয়। বিশেষ করে, বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে এই চরিত্রটি বিনোদনের একটি মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।
রেহানা ফেরদৌসী
সহসম্পাদক, সমাজ কল্যানবিভাগ,পুলিশ নারী কল্যান সমিতি,
(কেন্দ্রীয় পুনাক)
মোহাম্মদপুর,ঢাকা।
০১৯১১৫০৪৬৩৮

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST