কলমে: আব্দুল হালিম
(নওগাঁ সরকারি কলেজ, নওগাঁ)
ছোট্ট ছেলে আব্দুল্লাহ বয়স সবে সাত । বাবা হারা মায়ের আদুরে ছেলে। পাড়ার খেলার সাথীদের সাথে আনন্দে আর হৈ-হুল্লোড় করেই সারাদিন কাটে তার। খেলার সাথীদের হাতে নতুন খেলনা দেখে প্রায় মায়ের কাছে বায়না ধরে সে। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে অন্যের বাসায় কাজ করে তার মা জমিলা।যেখানে ছেলের মুখে দু’বেলা দুমুঠো ডাল ভাত তুলে দিতেই হিমশিম খেতে হয় জমিলাকে, সেখানে এমন আবদার আকাশ ছোঁয়ার মতো।কিন্তু তবুও সন্তানের ছোট্ট ছোট্ট আবদার পূরণ করতে সে পিছুপা হয়নি, সন্তানের আবদার পূরণ করতে চালিয়ে গেছে সর্বোচ্চ চেষ্টা,করেছে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম ।কখনো কখনো আবদার পূরণ করতে পেরেছে আবার কখনো কখনো আবদার পূরণ না করতে পারার ব্যর্থতায় ছেলেকে বুকে জড়িয়ে এক বুক কষ্ট নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সে। এইতো সেইদিন তার খেলার সাথী রফিকের বাবা রফিকের জন্য ঈদের নতুন পাঞ্জাবি কিনে দেয়, রফিক সেই পাঞ্জাবি রঙিন ব্যাগে মুড়ানো প্যাকেটে করে আব্দুল্লাহর বাড়িতে দেখাতে আসে।আব্দুল্লাহ তার নতুন পাঞ্জাবি দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়,দুই চোখ জুড়ে তার আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। আর তার এই আনন্দ দেখে মায়ের মুখে একটুকরো হাঁসি ফুটে ওঠে কিন্তু পরক্ষণেই নিমিষেই তা আষাঢ় এর কালো মেঘের রূপ নেয়। থমকে যায় জমিলা।
আব্দুল্লাহ অতি উৎসাহী হয়ে তার মা কে বলে ওঠে,
-ও মা! এইবার ঈদে রফিকের মতো আমারে একটা পাঞ্জাবি নিয়ে দিবে?
ছেলের মুখে এমন প্রশ্ন শুনে জমিলা যেন আকাশ থেকে পরে, পাহাড়ের মতো ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে সে, আর ভিতরের জমা কষ্টের বরফ গুলো ঝর্ণার মতো অদৃশ্য হয়ে ঝরে। যেই ঝর্ণা বাহিরের কোনো মানুষ দেখতে পায় না, শুনতে পায় না সেই আর্তনাদ, শুধু দেখতে পায় পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকা একটি পাথুরে মূর্তি,যেখানে জমিলাদের খুঁজলে পাওয়া যায়।