গফরগাঁও প্রতিনিধি
গফরগাঁও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাদক কারবারিদের তৎপরতায় যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে পাগলা থানার মলমল গ্রামে একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয় প্রভাব ব্যবহার করে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মলমল গ্রামের এক প্রভাবশালী নেতার বিস্তার করছে। তাদের অভিযোগ, ওই চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মলমল গ্রামের মৃত টুটুল মিয়া,একই বাড়ির আধাম মিয়া এবং পাগলা পশ্চিমপাড়ার আজাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা মাদক কারবার, প্রভাব বিস্তার ও যুবকদের বিপথে ঠেলে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগ রয়েছে, আজাদ অতীতে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন। অন্যদিকে টুটুল স্থানীয়ভাবে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত বলে দাবি এলাকাবাসীর। এ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন সময় নিরীহ মানুষকে হয়রানি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার মশাখালি রেলস্টেশন, মুখি মাজার, গফরগাঁও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলহাসিয়া এলাকা, পাগলা বালিপাড়া, মন্দিলা ব্রিজ ও সরকার বাড়ি ব্রিজ এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা চলছে। বিশেষ করে মুখি মাজার এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। এখানে মাসে প্রায় কোটি টাকার মাদক বেচা-কেনা হয়। পাগলা থানা পুলিশ শুধু আসে আর যায়, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়না এমন মন্তব্য করে একজন সচেতন যুবক বলেন, মাদক কারবারিরা পুলিশকে টাকা না দিলে ধরে, নিয়মিত মাসোহারা পেলে ধরে না। অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদকের কারণে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ও উঠতি বয়সী অনেক তরুণ বিপথগামী হচ্ছে। কেউ কেউ মাদকের টাকা জোগাড় করতে পরিবারের জিনিসপত্র চুরি করছে, আবার অনেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারেও জড়িয়ে পড়ছে।
একজন স্থানীয় স্কুল শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গ্রামের পরিবেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। যুব সমাজকে রক্ষা করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “একসময় গ্রামের মানুষ এসব কল্পনাও করত না। এখন মাদক যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা সমাজের জন্য বড় হুমকি। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, সমাজকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক কারবারিরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে টুটুল বলেন, “আমি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত নই। এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছি। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাবে দীর্ঘদিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকারী আওয়ামী লীগ নেত্রী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রোকসানা বেগমের বিরুদ্ধেও এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও মাদক বিস্তারে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাকে কারা আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর মতে, মাদক ও অপরাধ দমনে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং নিরপেক্ষ পদক্ষেপই পারে গফরগাঁওয়ের গ্রামীণ জনপদে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। এ বিষয়ে পাগলা থানা ওসি আমিনুল ইসলামের মন্তব্য জানা যায়নি।