হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রমজান মাসের সরকারি নির্দেশনা না মেনে নিজের খেয়াল খুশি মতো অফিস করেন। এতে নির্ধারিত সময়ে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। রবিবার (৮মার্চ) সকাল ৯টার ১১ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে অফিস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক দপ্তরে সময়মতো কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। সকাল ৯ টা থেকে ১০.১৫ মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তানভীর হাসান জিকু আসেনি, সকাল ৯ টা থেকে ৯.২৫ মিনিট পর্যন্ত মৎস্য অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন (বিআরডিবি) কর্মকর্তা হামিম রানার অফিসে গিয়ে দেখা যায় সকাল ৯ থেকে ৯.৩৫ পর্যন্ত তিনিও অফিসে আসেনি। বাকি অফিসে কয়েকজন কর্মচারী এসে অফিসে মোছামুছির কাজ করছেন অফিসার রয়েছেন ।
অপরদিকে সকাল ৯. থেকে ১১ টা পর্যন্ত ইসলামী ফাউন্ডেশন কক্ষেও তালা ঝুলতে দেখা যায়।
অন্যদিকে কিছু অফিস কক্ষে ফ্যান ও বৈদ্যূতিক বাতি চালু রাখা ছিল। এ সময় কয়েকজন সেবাগ্রহিতাকে বাইরে অপেক্ষা করতেও দেখা গেছে।
মৎস্য অফিসে সেবা নিতে আসা ইমরান হোসেন বলেন, আমি জানি অফিস শুরু হয় ৯টার দিকে এজন্য সময়ের একটু আগে এসেছি। এখানে এসে দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে দাঁড়িয়ে আছি তবুও কক্ষের তালা খোলেনি। আরেক সেবাগ্রহিতা কাওসার চৌধুরী বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসলেও সেবা পাই না। সঠিক সময়ে এসেছি, এখানো অফিসার আসেনি এজন্য সেবা পাচ্ছি না।
সকাল ১০ টা ২৯ মিনিটের দিকে অফিসে পৌঁছান খাদ্য নিয়ন্ত্রক জেসমিন আক্তার। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সাংবাদিকের কাছে জবাবদিহিতা করবো না। আমি কেন দেরিতে এসেছি কখন আসবো, বা আসবো না? সেটা আমার ব্যাপার। আমি দেরিতে এসেছি সেটা লিখে দিয়েন।
হোসেনপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা তানভীর হাসান জিকু অফিসে বিকাল পর্যন্ত ঘুরে তার দেখা পাওয়া যায়নি, পরে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আপনারা পরে আসেন কথা হবে। সরকারী নিয়মে কয়টা পর্যন্ত অফিস করার কথা জানাতে চাইলে তিনি জানান, সেটা আমি জানি না, পরে আসেন আমি জেনে বলতে হবে বলে ফোন কেটে দেন।
হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিন ইভা জানান, সরকারি নিয়ম মেনে অবশ্যই অফিসার কর্মচারীদের আসতে হবে। উপজেলার প্রত্যেকটি দপ্তরে সেটি জানানো হয়েছে। কেউ যদি সেটা অমান্য করে তাহলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।