1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
শিরোনাম

গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি

  • প্রকাশ কাল শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
  • ৮ বার পড়েছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বারবার আমাদের সামনে একটি কঠিন বাস্তবতা হাজির করেছে—যখনই দেশ উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে শুরু করে, তখনই একটি অশুভ মহল নানাভাবে অরাজকতা সৃষ্টি করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত এ দেশের মানুষ বহুবার ষড়যন্ত্র, সহিংসতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভয়াবহ চিত্র প্রত্যক্ষ করেছে। তাই বর্তমান সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এর ভেতরে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার গভীর উদ্বেগ এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষার বার্তা নিহিত রয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) ময়মনসিংহের ত্রিশালে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, দেশে অরাজকতা সৃষ্টিকারীরা ৫ আগস্টে বিতাড়িতদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এই বক্তব্যের ভেতরে যে রাজনৈতিক সংকেত রয়েছে, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, ক্ষমতা হারানো একটি গোষ্ঠী যখন গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়, তখন তারা ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও নৈরাজ্যের পথ বেছে নেয়।
বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তা দেশের একটি মহল সহজভাবে নিতে পারছে না। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে, তারা এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অস্বস্তিতে রয়েছে। ফলে তারা বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে।
রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সংবেদনশীল অপরাধকে কেন্দ্র করে কেউ যদি রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়, তবে তা নিঃসন্দেহে অমানবিক ও বিপজ্জনক প্রবণতা। একটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি এটিকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাও সমানভাবে নিন্দনীয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, বিচার ও রাজনীতি এক জিনিস নয়। বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ ও আইনের আলোকে; কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সহিংসতা উসকে দেওয়া বা রাষ্ট্রবিরোধী অপচেষ্টা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যারা নীরব ছিলেন, তারাই এখন হঠাৎ করে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। রাজনৈতিক সুবিধাবাদী গোষ্ঠীগুলো সবসময় পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তারা গণমানুষের কল্যাণের রাজনীতি করে না; বরং ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার রাজনীতি করে। আর এ ধরনের গোষ্ঠী যখন রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করে, তখন তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিস্তার এবং সামাজিক সূচকে সাফল্য—সব মিলিয়ে দেশ একটি সম্ভাবনাময় অবস্থানে পৌঁছেছে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রা টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কোনো বিকল্প নেই। কারণ উন্নয়ন কখনো অরাজকতার পরিবেশে টিকে থাকতে পারে না। বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা কৃষি—সবখানেই স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন, “মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না,” তখন তিনি মূলত জনগণের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এ দেশের সাধারণ মানুষ আর সহিংসতা, হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও কিংবা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখতে চায় না। তারা চায় শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবন। কাজেই রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত দায়িত্বশীল আচরণ করা এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
তিনি আরও বলেছেন, “দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে ৪০ কোটি হাতকে এক হতে হবে।” এই বক্তব্য নিছক রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। মতভেদ থাকতে পারে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা যায় না।
আজ বিশ্ব রাজনীতিতেও আমরা দেখতে পাচ্ছি, যেসব রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জড়িয়ে পড়েছে, তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বাংলাদেশ যেন সেই পথে না যায়, সে দায়িত্ব সরকার যেমন বহন করবে, তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ জনগণকেও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথা বলেছেন, তা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রের ইতিহাস বহু পুরোনো। তবে আশার কথা হলো, দেশের জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা বুঝতে শিখেছে কারা উন্নয়নের পক্ষে আর কারা অস্থিতিশীলতার রাজনীতি করে। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।
সবশেষে বলা যায়, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো রাজনৈতিক সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথকে সুদৃঢ় করতে হলে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ বাংলাদেশ কারও একার নয়—এ দেশ আমাদের সবার।

— রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান
বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
২৩ মে ২০২৬ ইং

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST