প্রেস রিলিজ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর সমস্যা সমাধানের নামে প্রতারণা; প্রতারক চক্রের এক সক্রিয় সদস্য কে র্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ গ্রেপ্তার করেছে।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে একদল সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘স্বামী-স্ত্রীর অমিল দূর করা’, ‘পারিবারিক কলহ নিরসন’ বা ‘সংসারে শান্তি ফেরানো’র চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছে। এমনই প্রতারণার শিকার হয়ে এক নারী ভুক্তভোগী চন্দ্রিমা থানা, আরএমপি, রাজশাহীতে মামলা নং-০৯, তারিখ-১৯ এপ্রিল ২০২৬খ্রিঃ, ধারা-৪০৬/৪২০ পেনাল কোড তৎসহ ২২/২৩/২৪/২৫/২৭ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ দায়ের করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে তিনি উক্ত চক্রের সাথে যোগাযোগ করেন। প্রতারক চক্রটি নিজেদের ‘বিশেষজ্ঞ’ বা ‘আধ্যাত্মিক সমাধানকারী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়। চক্রটি ভুক্তভোগীর নিকট থেকে কৌশলে গোপনীয় ভিডিও এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্যাদি নিয়ে নেয়। শুরুতে সামান্য ফি নিলেও পরবর্তী সময়ে জীনের মাধ্যমে সমাধান, নুর জাহান পাথর ক্রয়সহ বিভিন্ন অজুহাতে ধাপে ধাপে বিকাশ ও নগদে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও ভুক্তভোগী তাদের প্রতারনায় পড়ে গত ১২ এপ্রিল ২০২৬খ্রিঃ দুপুর অনুমান ১৫৩০ ঘটিকায় আরএমপি রাজশাহী চন্দ্রিমা থানার মেহেরচন্ডি গ্রামস্থ ফ্লাইওভারের নিচে এক ভড়ি তিন আনা ওজনের স্বর্ণের চেন ও কানের দুলসহ নগদ ৮০,০০০/-টাকা চক্রের সদস্যকে দিয়ে দেন। এক পর্যায়ে প্রতারক চক্রটি সমস্যার সমাধান না করে ভুক্তভোগীর গোপনীয় ভিডিও এবং তথ্যাদি পুঁজি করে উল্টো ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হয়।
উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনের প্রেক্ষিতে সিপিসি-২, র্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প এর আভিযানিক দল অদ্য ০৫ মে ২০২৬খ্রিঃ সকাল অনুমান ০৬৩৫ ঘটিকায় কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার ইসলামপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তদন্তে প্রাপ্ত প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য তৌহিদুল ইসলাম তপু (৩৭), জেলা-কিশোরগঞ্জকে গ্রেফতার করেছে।
জনসাধারণকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের চটকদার ও অবাস্তব বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে আর্থিক ও গোপনীয় তথ্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকার জন্য র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ অনুরোধ জানাচ্ছে।