1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন

ফের লিবিয়া থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশিকে প্রেরন

  • প্রকাশ কাল বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার পড়েছে

ওয়াসিম কামাল লিবিয়া।।

বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় ত্রিপলী থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। প্রত্যাবাসিত অভিবাসীরা লিবিয়ার বুরাক এয়ারের UZ222 ফ্লাইটযোগে ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল ০৬:৩০ ঘটিকায় ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তারা ত্রিপলী ও আশেপাশের বিভিন্ন শহর থেকে নানাবিধ ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদগ্রস্ত পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থসহ মোট ২৭ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ হাবীব উল্লাহ, এসজিপি, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রত্যাবাসিতদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের বিদায় জানান। এসময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) প্রকৌশলী মোঃ আমিনুর রহমান এবং প্রথম সচিব (শ্রম) জনাব মোঃ রাসেল মিয়া উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যাবাসনের পূর্বে মান্যবর রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিং প্রদান করেন।
ব্রিফিংকালে মান্যবর রাষ্ট্রদূত বলেন, দূতাবাস লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবর্তনে আগ্রহীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এসময় তিনি লিবিয়ায় বিপদগ্রস্ত ও পাচারের শিকার বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতা ও অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া, অভিবাসীদের বহির্গমন ভিসা (খুরুজ নিহায়ী) সহজীকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রত্যাবাসন ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দূতাবাস লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ ও আইওএম-এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে বলেও তিনি জানান।
প্রত্যাবাসনকালে মান্যবর রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের পুনর্বাসন এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার জন্য তাদের উৎসাহিত করেন এবং অর্জিত কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে স্বনির্ভর জীবন গড়ে তোলার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতারিত অভিবাসীদের দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে তারা আর কাউকে এ ধরনের প্রতারণার শিকার করতে না পারে। একই সঙ্গে তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের ফলে সৃষ্ট দুঃখ-দুর্দশা, ঝুঁকি ও বিভিন্ন প্রতিকূল অভিজ্ঞতা নিজ নিজ এলাকায় তুলে ধরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবর্তনে আগ্রহী এবং বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে লিবিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনে আগ্রহীদের আইওএম-এর নিকট পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে আইওএম-এর সহযোগিতায় চারটি প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে এখন পর্যন্ত ৬৮৯ জন অভিবাসীকে নিরাপদে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। এছাড়াও, নিবন্ধিতদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস লিবিয়া সরকার, আইওএম এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখছে।

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST