গত ২৮/১১/২০২৫ তারিখ কালের নতুন সংবাদ অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত “জনতা ব্যাংকের বিপর্যয়; লোকসানের কারণ এমডির দূর্নীতি ও অদক্ষতা” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি জনতা ব্যাংক পিএলসি, কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রতিবেদনে অসত্য তথ্যাবলী উপস্থাপিত হওয়ায় তা জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যাংকের এমডি মহোদয়কে জড়িয়ে ব্যক্তিগত চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে কিছু মনগড়া তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ব্যাংকের ২০২৪ সালে লোকসানের পরিমান ৩০৬৬ কোটি টাকা উল্লেখ করে এর দায় ব্যাংকের এমডি মোঃ মজিবর রহমানের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো, ২০২৪ সালের শেষ দুই মাস তিনি জনতা ব্যাংকের এমডি’র দায়িত্ব পালন করেন। কোন ব্যাংক হঠাৎ করে লোকসানে পড়ে যায়না। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ঋণ খেলাপি হওয়ার কারনে ক্রমান্বয়ে লোকসান বৃদ্ধি পায়। তাই ২০২৪ সালে ব্যাংকের লোকসানের দায় বর্তমান এমডি মোঃ মজিবর রহমানের উপর বর্তায় না। এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁর চরিত্রহনন ও তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষপ্রসূত বলে প্রতীয়মান হয়। উল্লেখ্য, বর্তমান এমডি দায়িত্ব গ্রহণ করার তার গতিশীল নেতৃত্বে আমানত, রেমিট্যান্স, খেলাপী ঋণ আদায় ও সুশাসনসহ বিভিন্ন সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে, ফলে জনতা ব্যাংক পিএলসি অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুসরন করে ব্যাংকের তারল্য সংকট মেটাতে গত বছর প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করা হয়। ব্যাংকের এই সাফল্যকে আপনাদের প্রতিবেদনে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্যাংকিং সেক্টরের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে দেশের আর্থিক খাতকে মজবুত করতে সহায়তা করাই সুস্থ সাংবাদিকতার পরিচায়ক।
একই প্রতিবেদনে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী হতে কমিশন গ্রহণের যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের বক্তব্য হলো, ঋণ প্রদানকালে ঋণকে ঝুঁকিমুক্ত করতে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের পরিসম্পদ বীমাকরণের শর্তারোপ করে থাকে, যাহার পরিপালন একান্তভাবে শাখার উপর নির্ভর করে। এটি একটি আবশ্যিক শর্ত। এখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কোনো ভূমিকা থাকে না। এছাড়া প্রতিবেদনে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বদলী, পদায়ন সহ আরো কিছু বিষয়ে অসত্য ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই প্রতিবেদনটি জনতা ব্যাংকের এমডি মহোদয়ের ব্যক্তিগত চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। আমরা উক্ত প্রতিবেদনটির তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
খলিলুর রহমান
উপমহাব্যবস্থাপক