1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
মিঠামইন ভূমি অফিসে ফাইল গায়েবের অভিযোগবিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশও অগ্রাহ্য নিকলীতে বিশ্ব শান্তি ও দেশ মাতৃকার কল্যাণে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত সীমান্তে ৫৩ অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ ও মোটরসাইকেল জব্দ ৭ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার মধুপুরের গোলাবাড়ীতে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ দুর্ভোগের সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া, বদলে যাবে দুই উপজেলার চিত্র‎ দুর্গম পার্বত্য পরিদর্শন ও রহমতপুর বিওপি উদ্বোধন: বিজিবি মহাপরিচালক গাজীপুর মহানগরীর গাছা ও বোর্ডবাজার এলাকায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৪ লাখ ৫৫ হাজার জরিমানা অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের মেয়ে সেতুর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণ শ্রেণিকক্ষে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ, ৭৫% উপস্থিতি না থাকলে পরীক্ষায় বসার সুযোগ নেই-ইউএনও- ফাতেমা জান্নাত
শিরোনাম
মিঠামইন ভূমি অফিসে ফাইল গায়েবের অভিযোগবিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশও অগ্রাহ্য নিকলীতে বিশ্ব শান্তি ও দেশ মাতৃকার কল্যাণে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত সীমান্তে ৫৩ অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ ও মোটরসাইকেল জব্দ ৭ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার মধুপুরের গোলাবাড়ীতে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ দুর্ভোগের সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া, বদলে যাবে দুই উপজেলার চিত্র‎ দুর্গম পার্বত্য পরিদর্শন ও রহমতপুর বিওপি উদ্বোধন: বিজিবি মহাপরিচালক গাজীপুর মহানগরীর গাছা ও বোর্ডবাজার এলাকায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৪ লাখ ৫৫ হাজার জরিমানা অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের মেয়ে সেতুর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণ শ্রেণিকক্ষে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ, ৭৫% উপস্থিতি না থাকলে পরীক্ষায় বসার সুযোগ নেই-ইউএনও- ফাতেমা জান্নাত

১লা সেপ্টেম্বর মিঠামইনে গণহত্যা দিবস: শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার নেই কোন উদ্যোগ

  • প্রকাশ কাল সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়েছে

মোক্তার হোসেন গোলাপ, মিঠামইন

১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাস। হাওরাঞ্চলজুড়ে থইথই পানি। চারপাশ থমথমে। মহান মুক্তিযুদ্ধ তখন তীব্র। এই সময়ে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের মিঠামইন উপজেলার ধুবাজোড়া ও তেলিখাই গ্রামে নেমে আসে ইতিহাসের এক কালো দিন।

১৯৭১ সালে কুখ্যাত রাজাকার ও আলবদরদের আমন্ত্রণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ইটনা, অষ্টগ্রাম ও নিকলী থানায় ক্যাম্প স্থাপন করে। এদিকে ধুবাজোড়া গ্রামের হাজি মো. সওদাগর ভূঁইয়ার বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা গোপনে ক্যাম্প করেছেন। এই খবর পৌঁছায় ইটনার পাক ক্যাম্পে। ফলে

৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর খুব ভোরে কেওয়ারজোর ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার কোরবান আলীর নেতৃত্বে সশস্ত্র রাজাকার ও পাক হানাদারদের একটি দল বিশাল বহর নিয়ে ধুবাজোড়া গ্রামের দক্ষিণ হাটি ঘেরাও করে।

বর্ষার কারণে চারদিক পানিবন্দি থাকায় সাধারণ মানুষ পালানোর সুযোগ পাননি। চারদিক থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে তারা গ্রামে ঢুকে পড়ে। হাজি মো. সওদাগর ভূঁইয়ার বাড়ি, আব্দুল গনি ভূঁইয়ার বাড়ি এবং রউশন ভূঁইয়ার বাড়িতে চালানো হয় ব্যাপক তাণ্ডব, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।

প্রায় দেড় শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়। এরপর বেছে বেছে গ্রামের প্রভাবশালী, শিক্ষিত ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় ইটনা পাক ক্যাম্পে। সেখানে অমানুষিক নির্যাতনের পর তাদের নির্মমভাবে হত্যা করে ভয়রা নামক স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এই অভিযানে গুরুতর আহত হন ইদ্রিস আলী ও মজনু ভূঁইয়া।

ধুবাজোড়ার তাণ্ডব শেষ করে হানাদাররা চলে যায় তেলিখাই গ্রামের মাথার বাড়িতে। সেখান থেকে আরও দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি আমির হোসেন ভূঁইয়া ও মুলক হোসেন ভূঁইয়াকে আটক করে হত্যা করা হয়।

ধুবাজোড়া গ্রামের ২০ জন শহীদদের মধ্যে – শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক
আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া, সিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া, রোকনুজ্জামান ভূঁইয়া, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া।আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া ছিলেন মিঠামইন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক।

জনপ্রতিনিধি ও আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন –
আব্দুল গণি ভূঁইয়া ইউপি চেয়ারম্যান। রমিজউদ্দিন ভূঁইয়া ইউপি সচিব। অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন ভূঁইয়া।

ছাত্রনেতা ও তরুণদের মধ্যে
আবদুর রাশিদ ভূঁইয়া, রোকনুজ্জামান ভূঁইয়া ওরফে আব্দুর রউফ।

গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গেদের মধ্যে
আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া, আব্দুর রউফ ভূঁইয়া, জহিরউদ্দিন ভূঁইয়া, আবদুল খালেক ভূঁইয়া, নূর আলী ভূঁইয়া, বুধাই ভূঁইয়া, রমজান ভূঁইয়া, আবু জামাল ওরফে জাহের, চান্দু মিয়া, সিরাজ মিয়া।

তেলিখাই গ্রামের ২ জন শহীদ
আমির হোসেন ভূঁইয়া ও মুলক হোসেন ভূঁইয়া।
৫৫ বছরেও স্মৃতিহীন
যে ২২ জন শহীদের তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ, স্বাধীনতার ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁদের ত্যাগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি।

ধুবাজোড়া বা তেলিখাই গ্রামে আজও নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিফলক বা স্মারক স্তম্ভ। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সরকারি নথিপত্রে শহীদদের নাম সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে এই গণহত্যার ইতিহাস অনেকটাই অজানা রয়ে গেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক মোক্তার হোসেন গোলাপ ব্যক্তিগত উদ্যোগে লেখনীর মাধ্যমে শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি
স্মৃতিচিহ্নহীন এই গ্রামগুলোতে এখন শুধু স্বজন হারানোর নীরব কান্না। শহীদ পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহলের একটাই দাবি

ধুবাজোড়া ও তেলিখাই গণহত্যার স্মৃতি বিজড়িত স্থানে সরকারি খরচে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করার।
২২ জন শহীদের নাম জাতীয় শহীদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাঁদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

১লা সেপ্টেম্বর এলে ধুবাজোড়া ও তেলিখাইয়ের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। হাওরের পানিতে ভেসে আসে ৫ ৫ বছর আগের সেই আর্তনাদ। রাষ্ট্র কি এবার এই অবহেলিত ২২ শহীদের ঋণ শোধ করবে?

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST