মোঃ আলম খান,নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার মদন খাদ্য গুদাম থেকে সরকারি চাল পাচারের ঘটনায় খাদ্য অধিদপ্তর এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ অডিট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ সেলিমুল আজম মদন খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, তদন্তে প্রাথমিকভাবে গড়মিল পাওয়া গেছে। তবে এখনো তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়নি।
উল্লেখ্য, নেত্রকোনার মদনে পাচারের সময় প্রায় ২০ মেট্রিকটন (৬৬৭ বস্তা) সরকারি চাল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ট্রাক চালক শামীম মিয়া (২৮), শাহিন মিয়া (২৫), এনামুল হক আনারের নাম উল্লেখসহ আরও ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল। বর্তমানে ট্রাক চালক শামীম মিয়া ও শাহিন মিয়া জেলহাজতে রয়েছেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ সেলিমুল আজম বলেন,
“অধিদপ্তর এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে মদন খাদ্য গুদামের ২০ মেট্রিকটন চাল পাচারের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। তদন্তে কিছু গড়মিল পাওয়া গেছে, তবে তদন্ত এখনো চলমান।”
এদিকে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, ২০ মেট্রিকটন চাল পাচারের ঘটনায় প্রকৃত জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে, সে যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে মদন উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ২০ মেট্রিকটন (৬৬৭ বস্তা) সরকারি চালবোঝাই একটি ট্রাক বের হয়। ট্রাকটি জেলার বারহাট্টার বাউসী এলাকার তালুকদার রাইস মিলে যাচ্ছিল বলে জানা যায়। প্রথমে মদন পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি ট্রাকটিকে বাধা দেন। পরে ট্রাকটি সেখান থেকে চলে যায়।
পরবর্তীতে উপজেলা শহর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার পুলিশ ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে চালবোঝাই ট্রাকটি আটক করেন।