1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
শিরোনাম
এলো প্রাণের ভাষার মাস মাদকাসক্তি তাড়াইলে পিতাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম’র নতুন কমিটিঃ চেয়ারম্যান আবু সালেহ, মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম প্রধান ময়মনসিংহে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৪ আসন্ন নির্বাচন ও জনগণের প্রত্যাশা সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গনতন্ত্র রক্ষায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ – সোহেল হোসেন কায়কোবাদ ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিন ছাড়াই তিন আসামি ছেড়ে দেওয়ায় -ডেপুটি জেলার বরখাস্ত দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান, ঐতিহাসিক জনসভায় নির্বাচনী অঙ্গীকার কিশোরগঞ্জ সদর–হোসেনপুরে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যের ডাক: মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে প্রাণবন্ত মতবিনিময়

সাদাফ হত্যা মামলা পাগলা থানার পুলিশের তদন্তে রহস্যজনক গড়িমসি

  • প্রকাশ কাল শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৭ বার পড়েছে

এম. কামরুজ্জামান, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ)ঃ
পাঁচ দিন নিখেঁাজ থাকার পর পরিত্যক্ত পুকুরপাড় থেকে অর্ধগলিত ও খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া পাঁচ বছরের শিশু আয়মান সাদাফের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে পাগলা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে রহস্যজনক গড়িমসির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পাগলা থানাধীন পাঁচবাগ ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামে সুলতান উদ্দিন এর মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের প্রথম সন্তান আয়মান সাদাফের লাশ ১৫ই জুলাই ২০২৫ইং তারিখ গোলাম হোসেনের বাড়ীর পিছনে পরিত্যক্ত পুকুর পাড় থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এরপর থেকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো বিশেষায়িত সংস্থা বা অন্য তদন্ত সংস্থার ছায়া তদন্তের উদ্যোগও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এতে মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা পাগলা থানার পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার বাদী পরিবার অভিযোগ করেছে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং কীভাবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রভাবিত করা হয়েছে; এসব বিষয়ে একাধিকবার থানা পুলিশকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো তদন্ত তৎপরতা চোখে পড়ছে না। নিহত শিশু আয়মানের নানা সুলতান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এলাকায় প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে— কারা, কেন এবং কত টাকার বিনিময়ে আমার নাতিকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের মা সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পাগলা থানার মামলা নং— ১৩/৮৬, তারিখ ১৬/০৭/২০২৫ইং। ধারাঃ ৩০২/২০১/৩৪; পেনাল কোড— ১৮৬০,১৮৫০ রুজু করা হইল। এমনকি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ঘুষের বিনিময়ে প্রভাবিত করার কথাও মানুষ বলছে। এসব তথ্য আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিঘীরপাড় গ্রামের একজন মুরুব্বি বলেন, শিশু আয়মানের নিহতের ঘটনার রহস্য উদঘাটন পুলিশের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পুলিশের উপর নির্ভর করে মামলার মেরিট। পরিবারের আরও অভিযোগ, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের রক্ষা করতে ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ ‘অনির্ধারিত’ দেখানোকে অজুহাত বানিয়ে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে সন্দেহভাজন আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারকে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলেছে। এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই পঙ্কজ চন্দ দে সরকার যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। বরং তিনি এই প্রতিনিধিকে থানায় এসে “সাক্ষাৎ” করার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে পাগলা থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই মুহূর্তে আমরা মামলাটির তদন্ত তৎপরতা জোরদার করতে পারছি না। তাছাড়া ঘটনাটি আমার থানায় যোগদানের আগের।” মামলাটি পিবিআই, সিআইডি বা অন্য কোনো বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থায় হস্তান্তর করা হচ্ছে না কেন; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি ভাবছি।” আইন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শিশুর নিখেঁাজ হওয়া, দীর্ঘ সময় পর অর্ধগলিত ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার এবং পরিবার কর্তৃক সুস্পষ্ট হত্যার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তদন্তে এই স্থবিরতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ‘নির্বাচন সামনে’— এই যুক্তিতে একটি গুরুতর শিশু হত্যা মামলার তদন্ত কার্যত থমকে রাখা আইনগত ও নৈতিক; উভয় দিক থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। স্থানীয়দের মতে, পুলিশের এই নীরবতা ও গড়িমসি মামলাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এ অবস্থায় নিহতের পরিবার আদালতে পৃথক মামলা দায়েরসহ অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় যেখানে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তই হওয়া উচিত, সেখানে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, ‘‘পাঁচ বছরের শিশু আয়মান সাদাফের মৃত্যু কি আদৌ ন্যায়বিচারের মুখ দেখবে ?’’ এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ^াস মোবাইলে বলেন, শিশু আয়মান নিহতের ময়না তদন্তের মেডিকেল রির্পোটে কোন মতামত নেই। সুতরাং মামলার বাদী মামলাটি চাইলে অন্য যে কোনো সংস্থা দিয়ে তদন্ত করতে পারে। এর বেশি কিছু মন্তব্য করতে রাজী নয়।

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST