1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:০৮ অপরাহ্ন

অবশেষে অভিনেতা-সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিরো আলামেরও না

  • প্রকাশ কাল শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩
  • ২৬২ বার পড়েছে

এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম:

হিরো আলম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন খবরেরর শিরোনাম। টকশো ও ভিডিও আকারে ব্যাপকভাবে আলোচনা সমালোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষকরে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি সহ বেশ কিছু বিরোধী রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধারক সরকারের দাবীতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলে। আর এই সময়টিতে আমাদের দেশের বর্তমান সময়ের অন্যতম ইন্টারনেট সেনসেশন হিরো, অভিনেতা-সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিরো আলম বগুড়ায় দুটি উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গে চাঞ্চল্যের সৃস্টি করে। বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়ে দেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকেন আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম। উভয় আসনে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হলেও বগুড়া- ৪ আসনে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ নেতা এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন মশাল প্রতীকে ২০ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তার নিকটতম প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম পান (হিরো আলম) ১৯ হাজার ৫৭১ ভোট । মাত্র ৮৩৪ ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনের এই ফলাফল হিরো আলম মেনে নিতে পারেননি। তিনি কারচুপির অভিযযোগ তুলেন, বলেন নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে বগুড়া – ৪ আসনে নির্বাচন তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। ফলে নির্বাচনের লড়ায়ে পুনরায় পা বাড়ালেন ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে। রাজধানীর গুলশান,বনানী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা ১৭ আসন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৫ হাজার ২০৫ জন।
হিরো আলম একটি সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য। নিজের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে ডিশ লাইনের ব্যবসা দিয়ে জীবনের অগ্রযাত্রা শুরু করে , পর্যায় ক্রমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কখনো নিজে অভিনয় করে নাটক, মডেলিং কখনো বিতর্কিতভাবে গান গেয়ে, কখনো কবিতা আবৃত্তি করে, বই লিখে এক ধরণের জনপ্রিয়তা ও আলোচিত সমালোচিত হয়ে সারা দেশে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। আর এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনের বৈতরণী পাড়ি দিতে নির্বাচনের মাঠে নামেন হিরো আলম।এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাত (মোহাম্মদ এ আরাফাত) ‘নৌকা’ প্রতীক, জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী সিকদার আনিসুর রহমান ‘লাঙ্গল’, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. রেজাউল ইসলাম স্বপন ‘ডাব’, জাকের পার্টির কাজী মো. রাশিদুল হাসান ‘গোলাপ ফুল’,তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী শেখ হাবিবুর রহমান ‘সোনালী আঁশ’, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী মো. আকতার হোসেন ‘ছড়ি’ প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম ‘একতারা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় হিরো আলমের সাথে। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ২৮ হাজার ৮১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম পেয়েছেন ৫ হাজার ৬০৯ ভোট।
ঢাকা- ১৭ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে শুরু থেকেই প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পরেন হিরো আলম। মনোনয়ন পত্র দাখিল কারার পর হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি। নির্বাচনে প্রচারনা চালানো কালে তিনি শারীরিক ভারে লাঞ্ছনার শিকার হন। সর্বশেষ নির্বাচনের দিন বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রের বাহিরে মর্মান্তিক শারীরিক নির্যাতন বা গণধোলাই ও মারপিটের শিকার হন তিনি। বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। মুহুর্থে হিরো আলমের গনধোলাই ও মারপিটের সংবাদ- ভিডিও দেশের গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তাপ সৃস্টি করে।
উদ্বেগ জানাতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহল। হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস। যদিও দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকায় জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী শেলডন ইয়েটকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সরকার।
এর মধ্যদিয়ে সরকার তাঁর কঠোর অবস্থন ক্লিয়ার করেছে। একই সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত ১২টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাস। যৌথভাবে এক বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানায় দূতাবাসগুলো।যা দূতাবাস ও হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিদাতা দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলো হলো- কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা ১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলমের যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, তার ওপর হামলার নিন্দা জানাই। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতার কোনো স্থান নেই। আমরা পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের জবাবদিহিতার দাবি জানাই, আগামী নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয় সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিশ্চিত করতে হবে। ১২ দেশের এই বিবৃতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। তিনি এটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন।
তবে পশ্চিমা কূটনীতিকরাও স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক ওবায়দুল কাদের এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অবস্থান জানিয়েছেন। চাওয়া অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। আলোচনায় এসেছে সাম্প্রতিক রাজপথে সরকার ও বিরোধীদলের কর্মকান্ড।
এর আগে গত ১২ জুন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হামলার শিকার হন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে এ দুই জন প্রার্থীর ওপর নির্বাচন চলাকালে হামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণমূলক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সরকারের সদিচ্ছা এবং সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই অবস্থায় ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে হামলার শিকার স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, এই সরকারের আমলে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনবার নির্বাচন করে মার খেয়েছি। প্রথমে ২০১৮ সালে, এরপর বগুড়ায় উপনির্বাচনে জিতেও ফল পাইনি। আবার ঢাকায় উপনির্বাচন করতে এসে মার খেলাম। আমি চেষ্টা করেছি, সুষ্ঠু ভোট হোক, ভোটাররা ভোট দিতে আসুক। কিন্তু মার খেলাম। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আর নির্বাচনে যাবো না। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত হিরো আলমও এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে আর অংশগ্রহণ না করার ঘোষনা দিয়েছে।” কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিলো সে মরে নাই “।
অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিনোদন কেন্দ্রীক হিরো আমাল ঢাকা ১৭ আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং এর প্রেক্ষিতে তাঁর সাথে নির্বাচনের সময় যে আচরণ করা হয়েছে বিশেষত প্রথমে তাঁর মনোনয়ন বাতিল, পরে ফিরিয়ে দেওয়া, প্রচার কাজে বাঁধা দেওয়া সর্বোপরি ভোটের দিন তাঁকে মারধর করা, এসবের প্রতিক্রিয়ায় হিরো আলমের পক্ষ থেকে নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ একইসঙ্গে এই সরকারের অধীনে আর নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করার ঘোষণা এবং এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছে বা হচ্ছে এতে হিরো আলম এখন রাজনৈতিক অঙ্গনেও হিরো হতে যাচ্ছে !

এমনিতেই এই সরকারের অধীনে বিদ্যমান নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ না করার ঘোষনা দিয়ে তত্ত্বাবধারক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দল গুলো। ২০১৪ সালের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন ও ২০১৮ সালের কথিত মধ্যরাতের নির্বাচনের অভিযোগ উদাহরণ হিসেবে সামনে রেখে সরকার বিরোধী জোট বলার চেষ্টা করছে তত্ত্বাবধারক সরকার ছাড়া এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। হিরো আলমের সাথে ঢাকা- ১৭ আসনের উপনির্বাচনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো অনেকটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে একজন সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বীকেও সহ্যকরার সক্ষমতা তাদের নেই। ফলে গত ১২ জুলাই ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক জনসভার মধ্যদিয়ে সারকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করে বিএনপি ও সমমনা দল এবং জোট।
বিএনপির ঘোষিত একদফার মধ্যে রয়েছে- বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও বর্তমান সংসদ বিলুপ্তি; নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে তার অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা; বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা প্রত্যাহার, ফরমায়েশি সাজা বাতিল এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার।

বিএনপি সহ সরকারবিরোধী দল ও জোট যখন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবীতে আন্দোলন করছে তখন গণতান্ত্রিক বিশ্বও বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, যুক্তরাজ্য সহ পশ্চিমা বিশ্ব ইতোমধ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশে একটি অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
এই অবস্থায় এক দফার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সরকার বিরোধী দল ও জোট ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সংঘাত দমন পীড়ন, গায়েবী মামলা, হামলার পথ পরিহার করে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে গণ মানুষের প্রত্যাশা পুরণে কাজ করে যাবে।

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST