সোলাইমান আহমেদ
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রধান সড়ক এখন সাধারণ মানুষের জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। তাড়াইল থানার সামনে থেকে শুরু হওয়া জাওয়ার ও কাউয়াখালী মুখী সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত যাত্রীদের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এই রাস্তাটি উপজেলার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। কারণ, উপজেলা সদর হাসপাতাল, থানা, বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক এবং এলাকার প্রধান প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন— সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, গার্লস স্কুল, প্রাইমারি স্কুল ও কলেজে যাওয়ার একমাত্র প্রধান মাধ্যম এটি। প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, জরুরি চিকিৎসার জন্য আসা মুমূর্ষু রোগী এবং সাধারণ মানুষকে এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। খানাখন্দের তীব্র ঝাঁকুনিতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে, আর গর্ভবতী নারী ও প্রবীণদের জন্য এই পথ এখন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলমান মে মাসেই তাড়াইল বাজার কবরস্থানের গেট, হাজী গোলাম হোসেন মহাজন বাড়ির সামনে এবং উপজেলা মডেল মসজিদের উত্তর দিকে বেশ কয়েকটি গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন নেত্রকোনা জেলার একাংশ, ইটনা উপজেলার বড় একটি অংশ এবং ঐতিহ্যবাহী জাওয়ার ও কাউয়াখালী বাজারের লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগস্থলটি এখন স্থানীয় ও দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এক ক্ষুব্ধ মুরুব্বি আক্ষেপ করে জানান, আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে রাস্তার এই ভয়াবহ অবস্থার কথা বারবার তোলা হলেও খানাখন্দ মেরামতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বড় বাজেটের কাজ যখন হবে তখন দেখা যাবে, কিন্তু এখন মানুষের জীবন বাঁচাতে ছোট ছোট গর্তগুলো অন্তত ইট-খোয়া দিয়ে সাময়িকভাবে ভরাট করা জরুরি।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের দাবি, বড় ধরনের কোনো বড় প্রাণহানি ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই মরণফাঁদ সড়কটি সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।