ডেস্ক রিপোর্ট
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা এবং নৃশংস সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোট (GECA), কিশোরগঞ্জ। সংগঠনটি এসব ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) এক বিবৃতিতে জিইসিএ কিশোরগঞ্জ জানায়, রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের যৌন নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা দেশব্যাপী শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে আছিয়া আক্তার, লামিয়া আক্তার, ফাহিমা আক্তারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের ওপর সংঘটিত নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাগুলো সামাজিক নিরাপত্তা, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে অন্তত ১ হাজার ৮৯০ জন শিশু ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৩ জন শিশু নিহত, ৫৮০ জন ধর্ষণের শিকার এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, এসব পরিসংখ্যানের প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে ভেঙে যাওয়া পরিবার, হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন এবং ক্ষতবিক্ষত মানবতা।
জিইসিএ কিশোরগঞ্জ মনে করে, শিশু ও নারীর বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘসূত্রতা, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক উদাসীনতা এবং দুর্বল প্রতিরোধ ব্যবস্থার বহিঃপ্রকাশ।
সংগঠনটি রামিসাসহ সকল শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম, প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে সামাজিক প্রতিরোধ, জেন্ডার সংবেদনশীলতা ও শিশু সুরক্ষার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিবৃতিতে জিইসিএ কিশোরগঞ্জ রামিসাসহ সকল নির্যাতিত শিশু ও নারীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়।
সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে, “নীরবতা নয়, প্রতিরোধ হোক আমাদের অঙ্গীকার; শিশু ও নারীর নিরাপত্তা হোক রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”