1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ঘুষ-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য ভালুকার কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস- জিম্মি সেবাগ্রহীতারা মদনে গরু চুরির ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী কারাগারে স্থিতিশীলতা শিক্ষা ও রাষ্ট্রগঠন: তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বার্তার রাজনৈতিক তাৎপর্য হোসেনপুরে সুরাটি আহমাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ৮৫তম সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সাংবাদিক মো: সৈয়দ হোসেনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ ভারতে মুসলিম নির্যাতন প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের প্রতিবাদ -বিক্ষোভ মিছিল গাছায় কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যসহ অস্ত্র মামলার আসামি গ্রেফতার ঢামেকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ‘দালাল’ সম্বোধনের প্রতিবাদে হোসেনপুরে মানববন্ধন বেলাবোতে ফার্মাসিটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভদের প্রতিবাদ সমাবেশ   প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
শিরোনাম
ঘুষ-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য ভালুকার কাচিনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস- জিম্মি সেবাগ্রহীতারা মদনে গরু চুরির ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী কারাগারে স্থিতিশীলতা শিক্ষা ও রাষ্ট্রগঠন: তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বার্তার রাজনৈতিক তাৎপর্য লিবিয়ায় ভূমধ্যসাগরের তীর থেকে ৩ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃতদেহ উদ্ধার হোসেনপুরে সুরাটি আহমাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ৮৫তম সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সাংবাদিক মো: সৈয়দ হোসেনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ ভারতে মুসলিম নির্যাতন প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের প্রতিবাদ -বিক্ষোভ মিছিল গাছায় কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যসহ অস্ত্র মামলার আসামি গ্রেফতার ঢামেকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ‘দালাল’ সম্বোধনের প্রতিবাদে হোসেনপুরে মানববন্ধন বেলাবোতে ফার্মাসিটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভদের প্রতিবাদ সমাবেশ  

স্থিতিশীলতা শিক্ষা ও রাষ্ট্রগঠন: তরুণদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বার্তার রাজনৈতিক তাৎপর্য

  • প্রকাশ কাল বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়েছে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—কীভাবে উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতাকে একই সুতোয় গাঁথা যায়? সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্য সেই প্রশ্নেরই নতুন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে। বক্তব্যে তিনি শুধু সরকারের পরিকল্পনা বা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা বলেননি; বরং রাষ্ট্র গঠনে তরুণ সমাজের দায়িত্ব, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং সামাজিক মানসিকতার রূপান্তরের বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা ছিল অনেকটাই সরাসরি, অনানুষ্ঠানিক এবং আত্মসমালোচনামূলক। তিনি স্বীকার করেছেন—একটি দেশের সব সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অর্থ পাচারের সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় অগ্রযাত্রাকে পিছিয়ে দিয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রকল্পের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; এর সঙ্গে জবাবদিহিতা ও সুশাসনের প্রশ্নও জড়িত।
তার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল “স্থিতিশীলতা” শব্দটির পুনরাবৃত্তি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। এই বক্তব্যের ভেতরে বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিফলন স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথনির্ভর সংঘাত, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী সেই বাস্তবতাকে সামনে এনে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—শুধু প্রতিবাদ নয়, দায়িত্বশীল মতামত গঠনেও এগিয়ে আসতে হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। তিনি বলেছেন, রাজনীতিকে রাজপথের সংঘাত থেকে সংসদমুখী করতে হবে। এই বক্তব্য গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি মৌলিক ধারণাকে সামনে আনে। গণতন্ত্রের শক্তি হচ্ছে বিতর্ক, আলোচনা ও নীতিনির্ধারণের সাংবিধানিক কাঠামো। কিন্তু বাংলাদেশে প্রায়শই রাজনীতি সংঘর্ষমুখী হয়ে ওঠে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ভোগান্তির শিকার হয়। প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তার বক্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক পক্ষপাতের সমালোচনা করেছেন এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়া, গবেষণার অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাব—এসব বিষয় বাস্তব সমস্যা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এই সংকটের স্বীকৃতি যেমন ছিল, তেমনি পরিবর্তনের ইচ্ছার ইঙ্গিতও ছিল।
তবে শুধু নীতিগত বক্তব্য দিলেই হবে না; বাস্তব প্রয়োগই এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ অতীতে বহুবার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি শুনেছে। এখন তারা দেখতে চায় কার্যকর বাস্তবায়ন। বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাভিত্তিক নিয়োগ, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ কিংবা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি—এসব ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী তরুণদের বিদেশি ভাষা শেখার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার পরামর্শ বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশ্ববাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। শুধু ডিগ্রি নয়, ভাষা দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানও এখন কর্মসংস্থানের বড় হাতিয়ার। তরুণ সমাজকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে এই চিন্তাধারা গুরুত্বপূর্ণ।

একইসঙ্গে মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। বর্তমানে নগর মধ্যবিত্ত সমাজে ইংরেজিমাধ্যম শিক্ষার বিস্তার নতুন এক সাংস্কৃতিক বিভাজন তৈরি করছে। প্রধানমন্ত্রী এখানে পরিবারের ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি পারিবারিক ও সামাজিক অভ্যাসের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

তার বক্তব্যের আরেকটি দিক ছিল সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ। তিনি উদাহরণ দিয়েছেন পানির অপচয়, ট্রাফিক আইন অমান্য কিংবা বন উজাড়ের মতো বিষয় নিয়ে। রাষ্ট্র শুধু আইন করে সমাজ বদলাতে পারে না—মানুষের মনোজগতেও পরিবর্তন আনতে হয়। এই উপলব্ধি একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উন্নয়ন মানে কেবল রাস্তা, সেতু বা ভবন নির্মাণ নয়; উন্নয়ন মানে নাগরিক সচেতনতার বিকাশও।

সবশেষে বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই মতবিনিময় ছিল কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়; বরং রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে এক ধরনের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য। এখানে যেমন আত্মসমালোচনা ছিল, তেমনি ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্নও। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সুশাসন এবং তরুণদের ইতিবাচক অংশগ্রহণ।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নতুন প্রজন্ম কতটা দায়িত্বশীল, দক্ষ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে তার ওপর। আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্থিতিশীল ও সম্ভাবনাময় পরিবেশ তৈরি করা। প্রধানমন্ত্রী সেই আহ্বানই জানিয়েছেন-এখন দেখার বিষয়, বাস্তবতার মাটিতে সেই আহ্বান কতটা প্রতিফলিত হয়।

— রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান
বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
১৩ মে ২০২৬ ইং

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST