জসিম উদ্দিন
প্রতিনিধি, বাজিতপুর
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর–বাজিতপুর সীমান্ত এলাকায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও ভরাট কার্যক্রম চলায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, দুটি শক্তিশালী ড্রেজার ও পাঁচটি সেলু মেশিন দিয়ে বিকট শব্দে মুহুর্মুহু বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, প্রায় ৫০ একর তিন ফসলি জমিতে কারখানা নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে জমি ভরাট করা হচ্ছে। এর কেন্দ্রস্থল কুলিয়ারচর উপজেলা হলেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের দক্ষিণ কামালপুর এলাকায়।
এলাকার বোরো ধানের জমির মালিকরা আতঙ্কে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ ড্রেজার ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতের আঁধারে অবৈধ ১০ চাকার ড্রাম ট্রাকে করে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এতে প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, গভীর রাতে বালুবাহী ট্রাকের বিকট শব্দে শিশু ও বৃদ্ধদের ঘুম নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা।
অনেক চেষ্টার পর জানা যায়, এ অবৈধ ড্রেজার ও বালু উত্তোলনের মূল হোতা মোবারক ইসলাম ওরফে ‘জাপানি মস্তু’। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কথা বলার সময় নেই। আপনি চাইলে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন।”
বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসিন খন্দকার জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজে ঢাকার একটি হাসপাতালে অবস্থান করছেন।
কুলিয়ারচর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। দ্রুত যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে