রুবেল মিয়া, (শেরপুর) থেকে:
পাহাড়, বন ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ শেরপুরের নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্কে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, জরাজীর্ণ অবকাঠামো, হাতির আতঙ্ক ও বিনোদনসুবিধার অভাবে কমছে পর্যটক। ৬৫ লাখ টাকায় ইজারা নিয়ে লোকসান গুনেছেন সাবেক ইজারাদার। বারবার দরপত্র আহ্বান করেও মিলছে না নতুন ইজারাদার।
প্রায় ৩৮৩ একর আয়তনের পার্কটি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় বিভিন্ন স্থানের পানি অপরিষ্কার। শিশুপার্ক থাকলেও পর্যাপ্ত রাইড নেই। ১০টি পিকনিক স্পটের বেশির ভাগ বেহাল। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি টয়লেট। পাহাড়ে ওঠার সিঁড়ি ও ভেতরের সড়কও নাজুক। নেই পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা।
সীমানাপ্রাচীর না থাকায় প্রায়ই বনহাতি পার্ক এলাকায় ঢুকে পড়ে। হাতির পাল দোকানপাট ভাঙচুর করে খাবার নষ্ট করায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
গণমাধ্যমকর্মী রবিউল ইসলাম বলেন, একসময় পার্কের প্রবেশমূল্য ১০ থেকে ২০ টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে প্রথমে ৫০, পরে ১০০ টাকা করা হয়েছে। অথচ বাড়তি টাকার বিপরীতে নতুন কোনো বিনোদন বা সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হয়নি। বিকেল ৪টার পর পর্যটকদের প্রবেশের সুযোগ নেই। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আশপাশে হাতির বিচরণ এবং পার্কের ভেতরে হাতি প্রবেশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পর্যটকদের আগ্রহ কমেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৫ লাখ টাকায় পার্কটি ইজারা দিয়েছিল বন বিভাগ। গত ২৮ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহ্বান করেও ইজারাদার পাওয়া যায়নি। পরে নভেম্বরে আবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৮ নভেম্বর জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাবেক ইজারাদার মজিবর রহমান চৌধুরী বলেন, ৬৫ লাখ টাকায় ইজারা নিয়ে ১২ মাসে অর্ধেক টাকাও তুলতে পারেননি। উন্নয়নকাজ না হওয়ায় পর্যটক কমেছে, ফলে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে।
মধুটিলা ইকোপার্কের রেঞ্জার আব্দুল করিম বলেন, উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক সাদেকুল ইসলাম খান জানান, জনবলসংকট রয়েছে। সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও লেক পুনঃখননসহ উন্নয়নকাজের জন্য ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে।
এদিকে গত ১০ অক্টোবর পার্কে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, মধুটিলা ইকোপার্কের উন্নয়নের পাশাপাশি শেরপুরের পর্যটন খাত এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধরী।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.
imunify-bot-check