বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ময়মনসিংহ বিতরণ অঞ্চলের আঞ্চলিক হিসাব দপ্তরের (আহিদ) উপ-পরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বৈরাচারী আচরণ ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ফাইল আটকে ঘুষ আদায়, বেতন-ভাতাদি বাবদ বরাদ্দকৃত তহবিলের উদ্বৃত্ত সরকারি অর্থ থেকে বেআইনিভাবে ঠিকাদারি বিল পরিশোধ এবং অন্যায়ের প্রতিবাদকারী কর্মচারীদের দূর-দূরান্তে বদলি করে হয়রানি করার মাধ্যমে তিনি দপ্তরে এক ছায়া-স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। আরো উল্লেখ্য যে ২০২৩ সালে তাকে হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বদলী করা হলে ময়মনসিংহের আহিদ ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মচারীরা আনন্দে মিষ্টি বিতরণ করে।
বেতনের বরাদ্দকৃত ব্যাংক তহবিল থেকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে ঠিকাদারের বিল পরিশোধের ভয়াবহ অনিয়মঃ
প্রাপ্ত তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, মোঃ আসাদুজ্জামান বছরের পর বছর ধরে এক নজিরবিহীন উপায়ে সরকারি অর্থ তসরুফ ও অনিয়ম করে আসছেন। সাধারণত কোনো দপ্তরে মাসিক বেতন বাবদ (যেমন ২৫ লাখ টাকা) যে বরাদ্দ আসে, প্রকৃতপক্ষে বেতন বাবদ যদি কম খরচ হয় (যেমন ১৮ বা ২০ লাখ টাকা), তবে বাকি উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যাংকের বেতন হিসাবে জমা থাকার কথা। কিন্তু আসাদুজ্জামান সরকারি নিয়ম-নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেতনের এই ব্যাংক তহবিলের টাকা থেকেই বেআইনিভাবে ঠিকাদারদের বিল মিটিয়ে থাকেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বিভাগীয় বিধিমালার ঘোর পরিপন্থী। দপ্তরের অন্যান্য কর্মচারীদের মতে, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ করাই তাঁর দীর্ঘদিনের পুরনো অভ্যাস ও নেষা। কিছু দিন পূর্বে উনি অতিরিক্ত পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর উক্ত দপ্তর হইতে বিভিন্ন ভূয়া বিল ভাউচার ও কর্মচারীদের নামে ভূয়া ভ্রমণ বিলের মাধ্যমে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
প্রতিবাদ করলেই প্রতিশোধ হিসাবে বদলি ও চরম হয়রানির শিকার হতে হয়।
আসাদুজ্জামানের এমন বেআইনি কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে বা যারাই আওয়াজ তুলেছেন, তাঁদের ওপরই নেমে এসেছে প্রতিশোধের খড়গ। অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অপরাধে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাতারাতি বদলি ও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবসরকালীন সময়ে অন্যায় বদলিঃ সহকারী হিসাবরক্ষক অসুস্থ আলমগীর সাহেবের চাকরিতে আর মাত্র দুই মাস বাকি ছিল। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী অবসরের শেষ সময়ে কাউকেই বদলি করা হয় না। কিন্তু আসাদুজ্জামানের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁকে ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশনে বদলি করে চরম হয়রানি করা হয়। সহকারী হিসাব রক্ষকদের হয়রানিঃ প্রতিবাদী কন্ঠস্বর দমনে সহকারি হিসাব রক্ষক মোহিত কে প্রথমত জামালপুর ও পরে গফরগাঁও বদলী করা হয় এবং হিসাবরক্ষক মোস্তফাকে প্রতিনিয়ত সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। দপ্তরের ন্যায়পরায়ণ কর্মচারীরা ও বিভিন্ন অফিসের ক্যাশিয়ারগণ বর্তমানে তাঁর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। বিল আটকে ঘুষ আদায় ও তার ময়মনসিংহ দপ্তরে বদলীর কারনে তাকে যে পরিমান ঘুষ দিতে হয়েছে তা সুদে- আসলে ঘুষের মাধ্যমে টাকা তোলার "অজুহাত এর বিষয়ে পূর্বে পিডিবি চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরিত অভিযোগে জানানো হয়, আসাদুজ্জামান দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে একই দপ্তরে কর্মরত থেকে কর্মচারীদের জিপিএফ অগ্রিম, ছুটি বিক্রয়, ভ্রমণ বিল, চিকিৎসা বিল ,এলপিসি, ডেবিট এডভাইস, লোনের সিডিউল প্রদান এমনকি শেষ বয়সের প্রদেয় চূড়ান্ত পেনশন ও মাসিক পেনশনের ফাইল আটকে রেখে মোটা অংকের ঘুষ আদায় করছেন। ঘুষের প্রতিবাদ করলে তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেন- ময়মনসিংহে বদলি হয়ে আসার জন্য তাঁকে ঊধ্বতর্ন কর্মকর্তা ও উপ- সচিবকে বিপুল টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে, যা তিনি এখন কর্মচারীদের কাছ থেকে' সুদে- আসলে তুলছেন। এছাড়াও তার পরিবারের সকল সদস্য ঢাকায় থাকলেও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ঘুষের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী রেস্ট হাউজে অবৈধভাবে অবস্থান করেন। অঢেল অবৈধ সম্পত্তি ও মামলা ধামাচাপা ঃ তার বিরুদ্ধে অর্জিত অঢেল অবৈধ সম্পদের অভিযোগও দীর্ঘদিনের : সম্পত্তি: নরসিংদীর শিবপুরে আলিশান বাড়ি ও মসজিদ নির্মাণ, ঢাকার পূর্বাচল ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক দামি প্লট এবং ময়মনসিংহ ও ঢাকায় বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। দুদক ও এনবিআরের মামলা ধামাচাপা: ব্যাংক একাউন্টে ৯০ লাখ টাকা থাকার অপরাধে এনবিআরের মামলা হলেও ঘুষের মাধ্যমে তা ধামাচাপা দেন। বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে অঢেল ধন- সম্পত্তি গড়ে তোলা এবং পরবর্তীতে এনবিআর ও দুদকের মামলা থেকে বিপুল টাকার বিনিময়ে উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান অব্যাহতি পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্বজনদের বিদেশে পাঠানো: সংগৃহীত ঘুষের প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করে মেয়ে ও জামাতাকে বিদেশে পাঠিয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ্য রয়েছে। সাধারণ কর্মচারীদের অভিযোগ তার নেতৃত্বে আহিদের ষ্টোর রুমে মদের পার্টি ও বাজে মহিলাদের সমাগম হয়ে থাকে এর ফলে বিগত সময়ে একাধিক বার গোলযোগ হয়েছে।
বিভিন্ন বিদ্যুৎ অফিসের ক্যাশীয়ার ও কর্মচারীদের আকূল আবেদন দীর্ঘদিনের এ হয়রানি, নির্যাতন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থনৈতিক অনিয়ম থেকে রক্ষা পেতে ময়মনসিংহ বিতরণ অঞ্চলের সাধারণ শ্রমিক - কর্মচারীরা পিডিবি চেয়ারম্যানের কাছে আকূল আবেদন জানিয়েছেন। ১। এই ব্যাপারে সংবাদ কর্মীকে একজন ভুক্তভোগী সহকারী হিসাব রক্ষক জানিয়েছেন, যে উপ- পরিচালক আসাদুজ্জামানের দুর্নীতির অনিয়মের প্রতিবাদ করা তাকে জামালপুর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বদলি করা হয়।২। অবসরপ্রাপ্ত সহকারি পরিচালক তিনি বলেন আসাদুজ্জামান এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগগুলো সত্য ।৩। এই বিষয়ে আরেকজন পি আর এল ভুক্ত বাজিতপুর এর ক্যাশিয়ার আব্দুর রউফ সাহেব বলেছেন যে উপ পরিচালক আসাদুজ্জামান ঘুষ দুর্নীতি ও মদ নারী সংক্রান্ত অভিযুক্তির পুরোপুরি সত্য। ৪। নাম প্রকাশ না করা একাধিক কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা বলেছেন উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান তাহার বিরুদ্ধে সকল দুর্নীতির অনিয়মের ঘটনা সত্য। এই বিষয়ে সংবাদ কর্মী whatsapp এর মাধ্যমে উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগটি মিথ্যা বলে দাবি করেন। ভুক্তভোগীরা এবং সুশীল সমাজের নাগরিক বৃন্দ তাঁরা অবিলম্বে উক্ত বিতর্কিত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানকে চাকরি থেকে অপসারণ, তাঁর সকল অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.
imunify-bot-check