মোঃ সারোয়ার হোসেন,
ঢাকা-১ আসনের অন্তর্গত নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় রাসায়নিক সারের ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে প্রকৃত সার ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অবৈধ যোগসাজশে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দুই উপজেলার সাধারণ সার ডিলার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে যারা সুনামের সঙ্গে সারের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন, তাদের আবেদন রহস্যজনক কারণে বাতিল করা হয়েছে। তার পরিবর্তে এমন ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। যাদের কোনো সার ব্যবসার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি অনেকের উপযুক্ত গোডাউন বা কৃষকের কাছে সার সরবরাহের কোন অভিজ্ঞতা নেই ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার সরবরাহের মতো ন্যূনতম অবকাঠামোও নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবাবগঞ্জের এক প্রবীণ সার ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা নিয়ম মেনে সব ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের নামে পকেট কমিটি গঠন করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অদক্ষ লোকজনকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।"
একই অভিযোগ দোহারের ব্যবসায়ীদেরও। তাদের দাবি, সার বিতরণ ব্যবস্থাকে একটি নির্দিষ্ট মহলের পকেটস্থ করতে এই কারচুপির ছক আঁকা হয়েছে। এর ফলে সামনের বোরো ও রবি মৌসুমে সাধারণ কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সঠিক সময়ে সার পাবেন কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদি সিন্ডিকেটের হাতে সারের ডিলারশিপ চলে যায়, তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা করছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা
সার ডিলার নিয়োগের এই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় যে অনিয়ম হয়েছে, তা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা অবিলম্বে এই পক্ষপাতমূলক প্রক্রিয়া স্থগিত করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাবর। সঠিক যাচাই-বাছাই করার জন্য দাবি জানিয়েছেন।
দাবি আদায় না হলে এবং কারচুপির মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.
imunify-bot-check