স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সিরাজীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের নাম জড়িয়ে থানায় মামলা করতে গিয়েও মামলা করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শফিকুর রহমান বাদল। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে দলীয় যেকোনো শাস্তি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে হামলার বিচার ও জড়িতদের শাস্তির দাবি, অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বিষয়ে স্থানীয় এমপি সহ জেলা পুলিশ সুপার অবগত আছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক বিরোধ যা-ই থাকুক না কেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে এবং নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা হবে। একই দলের দুই নেতাকে ঘিরে এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কটিয়াদীর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে কটিয়াদী পৌর বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের ওপর হামলার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান সিরাজী।
সংবাদ সম্মেলনে শাহজাহান সিরাজী বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার তেলিচাড়া এলাকায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের বাড়িতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি গোপন বৈঠক চলছিল। খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পৌর সদরের ভোগপাড়া এলাকার টিটু মিয়া নামের ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শাহজাহান সিরাজীর দাবি, ওই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে সন্দেহ করতে থাকেন গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির স্বজনেরা। এরপর থেকে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে কটিয়াদী আসার পথে উপজেলার কাহেতেরটেকী এলাকায় পৌঁছালে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
হামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের নির্দেশে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এমদাদুল হক রাতুল, ছাত্রলীগ নেতা মো. নাছিম, হাবিবুর রহমান সন্দেশ, আল আমিন, শামীমসহ ১০ থেকে ১২ জন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁকে মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে তিনি আহত হন।
শাহজাহান সিরাজী আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদলের নাম উল্লেখ করে কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। বাদলের নাম থাকায় পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে শাহজাহান সিরাজীর এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদল। তিনি বলেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি এ অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শাহজাহান সিরাজীর ওপর হামলার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে দলের যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে রাজি আছি। আর যদি আমার কোনো সম্পৃক্ততা না থাকে, তাহলে কেন আমাকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ এবং মিথ্যা অভিযোগ থেকে তাঁকে দায়মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে, এ হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন এবং সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল রহমান সজল সরকার। তাঁরা বলেন, শাহজাহান সিরাজীর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তে দলীয় কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
অন্যদিকে, থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদল ও পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শাহজাহান সিরাজীর ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বিষয়ে স্থানীয় এমপি এড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সহ জেলা পুলিশ সুপার অবগত আছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.