রুবেল মিয়া, (শেরপুর) থেকে :
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের আশপাশের এলাকায় কফি চাষ ঘিরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন তুলিপ। তাঁর দাবি, পাহাড়ি মাটি, গাছের ছায়া ও অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কফি চাষে সাফল্য পাওয়া গেছে। এখন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর সদর, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রায় ১০০ জন কৃষক বর্তমানে কফি চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
কফি চাষের এই উদ্যোগের শুরুটা স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন তুলিপের হাত ধরে বলে জানান তিনি। পেশাগত কারণে বান্দরবানে কর্মরত থাকাকালে পাহাড়ি এলাকায় কফি চাষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেখানে কফি গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। পরে শেরপুরের গারো পাহাড়ের আশপাশের এলাকায় চাষের উদ্দেশ্যে কয়েকটি কফির চারা নিয়ে আসেন। তাঁর দাবি, গাছগুলোর ভালো বৃদ্ধি ও ফলন দেখে তিনি বুঝতে পারেন, এ অঞ্চলের মাটি ও পরিবেশেও কফি চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।
সাজ্জাদ হোসেন তুলিপ জানান, এরপর নিজ উদ্যোগে কফির বীজ সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন শুরু করেন তিনি। পর্যায়ক্রমে শেরপুর সদর, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার কৃষকদের মধ্যে এসব চারা বিতরণ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রায় ১০০ জন কৃষক সরাসরি কফি চাষে যুক্ত হয়েছেন।
সাজ্জাদ হোসেন তুলিপ বলেন, “কফি চাষ এখন আমার কাছে শুধু শখ বা স্বপ্ন নয়, এটি আমার জীবনযাত্রার একটি মূল অংশ। আমার লক্ষ্য, এই উদ্যোগকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে একদিন শেরপুর ‘কফির জেলা’ হিসেবে পরিচিতি পায়।”
উদ্যোক্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কফির চারা রোপণের প্রায় তিন বছর পর ফলন শুরু হয়। পূর্ণবয়স্ক একটি গাছ থেকে বছরে গড়ে ৫ থেকে ৭ কেজি কাঁচা কফি পাওয়া যেতে পারে। প্রতি একর জমিতে প্রায় ৭০০টি চারা রোপণ করা যায় বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা কফি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এলাকায় অ্যারাবিকা ও রোবাস্টা জাতের কফি চাষ হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কফি চাষের বাজার নিয়েও আশাবাদী উদ্যোক্তা। সাজ্জাদ হোসেন তুলিপের দাবি, তাঁদের উৎপাদিত কফি ঢাকার বিভিন্ন ক্যাফেতে সরবরাহ করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, বাজারে কফির চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত উৎপাদনের অভাবে এখনো সেই চাহিদার পুরোটা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
শেরপুরের কফি নিয়ে বিদেশেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাজ্জাদ হোসেন। তাঁর দাবি, গত নভেম্বর মাসে নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিনিধি দল তাঁর কফি বাগান পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক ছিল বলেও জানান তিনি। এছাড়া নেদারল্যান্ডসে পাঠানো কফির নমুনা ল্যাব পরীক্ষায় মানসম্মত ফল পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন এই উদ্যোক্তা।
কফি চাষ সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগও রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, “গারো পাহাড়ে গাছের ছায়ায় কফি চাষের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।” তিনি জানান, কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় গত দুই অর্থবছরে ১২০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
উদ্যোক্তার মতে, কফি চাষের জন্য উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা, বাজার সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের সহজ শর্তে সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ের আশপাশের এলাকায় এ চাষ আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি দেশের কফির বাজারেও স্থানীয় উৎপাদনের অংশ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
তবে উদ্যোক্তার স্বপ্ন আরও বড়। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতায় নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ের আশপাশের এলাকার কফি চাষকে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষিভিত্তিক শিল্পে রূপ দিতে চান সাজ্জাদ হোসেন তুলিপ। তাঁর স্বপ্ন, একদিন শেরপুর ‘কফির জেলা’ হিসেবে পরিচিতি পাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.