দুই সন্তানকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার যুদ্ধ পারভীনের।
রুবেল মিয়া, (শেরপুর) থেকে:
স্বামীহারা মোছা. পারভীন আক্তার। সংসারে উপার্জনক্ষম আর কেউ নেই। প্রায় ৫ বছরের ছেলে ও ৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে অভাবের সংসারে প্রতিদিনই লড়াই করে বেঁচে আছেন তিনি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে তিনজনের সংসার। কখনো সেই আয়েও খাবার জোটে না। তার ওপর নিজের শারীরিক সমস্যাও রয়েছে। পারভীনের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর নয়াপাড়ায় বসবাস পারভীনের। স্বামী মারা যাওয়ার পর ছোট দুই সন্তানই এখন তাঁর পৃথিবী। নিজের কোনো চাষাবাদের জমিও নেই। তাই অন্যের বাড়িতে কাজ করেই সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
পারভীন বলেন, “আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করি। যা পাই, তা দিয়ে সংসার চালাতে পারি না। মাঝে মাঝে না খেয়েও থাকতে হয়। কোনো কোনো দিন বাচ্চাদের খাবার জোটাতে গিয়ে নিজেকেই না খেয়ে থাকতে হয়। আমার কোনো চাষাবাদ করার মতো জমি নেই। তার ওপর শ্বাসকষ্টের সমস্যাও আছে। তারপরও সন্তান দুটির জন্য কাজ করতে হয়।”
তবে অভাবের এই সংসারে শুধু খাবারের সংকটই নয়, পারভীনের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা একটি নিরাপদ ঘর নিয়ে।
পারভীন ও তাঁর দুই সন্তান যে ঘরে বসবাস করেন, সেটি জিওব্যাগ ও কম্বল দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর। নেই কোনো চকি। মাটির ওপর বিছানা পেতে ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে রাত কাটাতে হয়। একই ঘরে রান্না ও বসবাস। বৃষ্টি হলে ঘরের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। তখন ছোট সন্তান দুটিকে নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন, সেই চিন্তায় পড়তে হয় তাঁকে।
দুই সন্তানকে নিয়ে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই প্রতিদিন জীবিকার সন্ধানে বের হন পারভীন। মানুষের বাড়িতে কাজ করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করাই কঠিন। সেখানে একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণ করা তাঁর একার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
পারভীনের চাওয়া বড় কিছু নয়। সন্তান দুটিকে নিয়ে বৃষ্টি-ঝড়ের রাতে যেন একটু নিরাপদে থাকতে পারেন, মাথার ওপর যেন একটি স্থায়ী ছাদ থাকে—এটাই তাঁর আকাঙ্ক্ষা।
স্থানীয়রা জানান, পারভীনের মতো অসহায় পরিবারের পাশে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, মানবিক মানুষ কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে একটি ছোট ঘর নির্মাণ করা সম্ভব। এতে পরিবারটির দীর্ঘদিনের একটি বড় সংকটের সমাধান হতে পারে।
স্বামীহারা পারভীনের জীবনযুদ্ধ থামেনি। অভাব, কাজের অনিশ্চয়তা, শারীরিক কষ্ট আর অনিরাপদ ঘরের মধ্যেও দুই সন্তানকে আগলে রেখেছেন তিনি। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্নও দেখেন এই মা। তাঁর কাছে একটি নিরাপদ ঘর শুধু বসবাসের জায়গা নয়—দুই সন্তানকে নিয়ে একটু নিশ্চিন্তে বেঁচে থাকার আশ্রয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.