নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৃত্যুর ১৫২ দিন পর অবশেষে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পিতার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদী। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ থেকে তাঁর মরদেহ নিজ দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন ঝিনাইদহের একটি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে ঝিনাইদহ পৌর গোরস্থানে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয়।
পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হয়। পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশে যোগাযোগ করে মরদেহ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অবস্থিত আফগান দূতাবাস, বাংলাদেশ পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়।
দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঝিনাইদহ পৌর গোরস্থান থেকে হাসমত মোহাম্মাদীর মরদেহ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উত্তোলন করা হয়। পরে মরদেহটি ঢাকায় এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়। মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনুমোদন, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও এয়ার কার্গো সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর ১০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি আফগানিস্তানের কাবুলে পাঠানো হয়।
কাবুলে পৌঁছানোর পর ইসলামি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ১১ সেপ্টেম্বর স্বজনদের উপস্থিতিতে হাসমত মোহাম্মাদীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পিতার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। দীর্ঘ ১৫২ দিনের অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও বেদনার পর পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনকে শেষবারের মতো নিজ দেশে এবং পিতার কবরের পাশে শায়িত করার সুযোগ পান।পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর হাসমত মোহাম্মাদীর মরদেহ নিজ দেশে নিয়ে গিয়ে পরিবারের কাছে এবং পিতার কবরের পাশে দাফন করতে পারা তাঁদের জন্য গভীর বেদনার মধ্যেও এক ধরনের স্বস্তির বিষয়।তাঁর মরদেহ বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়া এবং দাফনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরিবারকে বিভিন্ন আইনি, প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মরদেহ উত্তোলন, পরিচয় নিশ্চিতকরণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বিমান কার্গোর মাধ্যমে মরদেহ পরিবহনের প্রতিটি ধাপে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা নিতে হয়েছে।
হাসমত মোহাম্মাদীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশে অবস্থিত আফগান দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষে আইনি কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে সহযোগিতা করার জন্য নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুমের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘদিন পর হাসমত মোহাম্মাদীর মরদেহ স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে এনে নিজ দেশের মাটিতে পিতার কবরের পাশে দাফন করা সম্ভব হয়েছে—এটাই তাঁদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। এই দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়ায় যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান পরিবারের সদস্যরা।
হাসমত মোহাম্মাদীর মৃত্যু ও মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার এই দীর্ঘ ঘটনাপ্রবাহে একদিকে যেমন পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বেদনার চিত্র ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে আন্তঃদেশীয় মরদেহ হস্তান্তর ও প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতাও সামনে এসেছে।
দীর্ঘ ১৫২ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হাসমত মোহাম্মাদী ফিরে পেলেন তাঁর আপন ঠিকানা—কাবুলে পিতার কবরের পাশে।
আল্লাহ তায়ালা মরহুম হাসমত মোহাম্মাদীকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় বেদনা সহ্য করার শক্তি দান করুন।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.