নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নীলগঞ্জ কাচারি পাড়া এলাকায় ভাইয়ের চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারায় বোনকে কুপিয়ে জখম করেছে ভাই।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী মনোয়ারা, হোসনা ও ইদ্দিশ দাবি, সম্প্রতি সময়ে জোর করে অসুস্থ পিতা আলী হোসেনকে চাপ দিয়ে ১ শতাংশ জমি বিক্রি করে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় কুদ্দুস।
অন্যদিকে সিদ্দিক জোর করে পিতাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ৯ কাটা জমি ভোগ দখলে রেখেছে ৬ বছর যাবত।
এ ছাড়াও বিদেশ ফেরত বোন হোসনার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা।
এসব বিষয় গ্রামের লোকজন দেন দরবার করে ব্যার্থ হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।
জমি ফেরত চাইলে ও টাকার জন্য চাপ দিলেই শুরু হয় অত্যাচার নিপীড়ন।
এসব নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলন, বক্তব্য বোন হোসনা ও বৃদ্ধ মা মনোয়ারা বলেন, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামের প্রবাসী হোসনার হাতের আঙ্গুল কেটে নিয়েছে আপন ভাই সিদ্দিক ও কুদ্দুস ।
গত ২১ জুলাই আহত হোসনে আরা বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় চারজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- ইসলামপুর গ্রামের সিদ্দিক (৫৮), কাচারীপাড়া গ্রামের কুদ্দুছ (২৮), কুদ্দুছের স্ত্রী নুরুনাহার (২৫) ও বোরহান (২৪)।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকে হোসনে আরার ছোট ভাই কুদ্দুছ অসুস্থ বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন না করে উল্টো জমি ও টাকার জন্য তাদের নির্যাতন করতেন। ভাইয়ের নির্যাতন থেকে বাবা-মাকে রক্ষা করতে হোসনে আরা নিয়মিত অর্থ সহায়তা করতেন। পরে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং বাবা-মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে সৌদি আরব গিয়ে উপার্জন শুরু করেন।
গত ১৪ জুলাই সকাল ১১টার দিকে কুদ্দুছ তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করে হোসনে আরা আগে দেওয়া ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে সৎ ভাই সিদ্দিকের নির্দেশে কুদ্দুছ তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বাম হাতের চারটি আঙুল কেটে ফেলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ইদ্রিস মিয়া জানান, পরিবারের দায়িত্ব নিতে বিদেশে যাওয়া হোসনে আরা বাবা-মায়ের ভরণপোষণের পাশাপাশি ভাইকে অটোরিকশা ও টমটম কিনে দিয়েও সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু সেগুলো বিক্রি করে কুদ্দুছ বারবার মায়ের কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না পেলে তাকে নির্যাতন করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় মামলার আসামি রিপন ও জীবন মামলা চলমান অবস্থায় সৌদি আরবে চলে যান। উল্লেখ্য যে আসামিদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় বিভিন্ন অপরাধে ৩ টি মামলায় চলমান রয়েছে। যাহার নং-৪০ তারিখ ২১/০৭/২০২৬ ও ২২/২০২৫ এবং কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়ালম্যাজিষ্টেট আদালত নং১, ৩৫৯(১)২৪।
বিষয়টি নিয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত এসআই নাজমুল বলেন, মামলার আসামিদের আগে পাসপোর্ট করা ছিল।
আর বাদী আসামি বিদেশে যাবার ঘটনা আগে পুলিশকে জানাননি।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার এসআই আ: কাদের বলেন, ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামিদের আটক করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.