নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। রোগী ও স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলেও অনেক ক্ষেত্রেই উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখিয়ে রোগীদের কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়, সময়ের অপচয় এবং দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তাড়াইল ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে রোগী, স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য এই হাসপাতালই প্রাথমিক চিকিৎসার প্রধান ভরসা। কিন্তু জটিলতা দেখা দিলেই রোগীদের উচ্চতর হাসপাতালে রেফার করার প্রবণতা বাড়ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আফছার উদ্দীন জানান, জ্বর নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর নিয়মিত চিকিৎসা পেলেও এখন পর্যন্ত শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। প্রতিদিন সকালে চিকিৎসক এসে রোগী দেখেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে চলে যান বলে তিনি জানান।
স্ট্রোকে আক্রান্ত এক রোগীর স্বজন আকলিমা আক্তার বলেন, স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর দুই দিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ বা ময়মনসিংহে নিতে হবে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানে নেওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।
আরেক রোগীর স্বজন শাওন মিয়ার অভিযোগ, “এখানে অনেক রোগীকেই বাইরে পাঠানো হয়। উপজেলা হাসপাতালেই যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসা সক্ষমতার বাইরে কোনো রোগী এলে চিকিৎসার স্বার্থেই তাকে উচ্চতর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অতীশ দাস রাজিব বলেন, “অযথা কাউকে রেফার করা হয় না। যেসব রোগের চিকিৎসা উপজেলা পর্যায়ে দেওয়া সম্ভব নয় অথবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উন্নত যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়, নিয়ম অনুযায়ী শুধু সেসব রোগীকেই জেলা সদর হাসপাতাল বা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।”
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল রয়েছে এবং রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কোনো রোগী সেবা নিয়ে অভিযোগ করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সচেতন নাগরিকদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রোগীদের ঘন ঘন রেফারের প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর উদ্যোগেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।