মাইনুল হক মেনু, স্টাফ রিপোর্টার:
উন্মুক্ত জলাশয়ের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষা, দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও হাওরে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে মৎস্য বিভাগ। অভিযানে প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের চায়না দুয়ারি (রিং) জাল ও কারেন্ট জালসহ মোট ৭২টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত সব জাল স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কটিয়াদী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে বাট্রা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানের আওতায় করগাঁও হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ইলেকট্রোফিশিং বন্ধে তদারকি, অবৈধ বাঁধ ও মাছের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধক বিভিন্ন স্থায়ী স্থাপনা অপসারণের কার্যক্রমও পরিচালিত হয়।
অভিযানে ৬২টি চায়না দুয়ারি (রিং) জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মোট দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৮৭০ মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ১০টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৫০০ মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ৭২টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চায়না দুয়ারি (রিং) জাল ও কারেন্ট জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ আহরণের ফলে পোনা মাছ, ডিমওয়ালা মা মাছ এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উন্মুক্ত জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়। এ কারণে সরকার এসব জালের উৎপাদন, বিক্রয়, বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। অভিযান শেষে জব্দকৃত সব জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত জেলে, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় জনগণকে নিষিদ্ধ জালের ক্ষতিকর দিক, ইলেকট্রোফিশিংয়ের ভয়াবহতা এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে সচেতন করা হয়। ভবিষ্যতে কেউ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিষিদ্ধ জাল, ইলেকট্রোফিশিং ও অবৈধ বাঁধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, করগাঁও হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, অবৈধ মাছ শিকার এবং ইলেকট্রোফিশিং প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালিত হবে। জনস্বার্থে এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.