মাইনুল হক মেনু, স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আলোচিত শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, মামলার অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার বিকেলে উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের উত্তর ঝিড়ারপাড় চৌকিদারবাড়ি মোড়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন লোহাজুরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জসিম উদ্দিন, নিহতের বাবা আব্দুল কাদির, স্ত্রী রিমা আক্তার, বড় বোন ও মামলার বাদী বেগম আক্তার, খালাতো ভাই খোকন মিয়া, মো. শফিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিহতের স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী রিমা আক্তার বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখনো আসামিরা আমাকে এবং আমার চার বছর ও এক বছর বয়সী দুই সন্তানকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার এবং সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। মামলার বাদী ও নিহতের বড় বোন বেগম আক্তার বলেন, প্রকৃত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার চাই। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্বজনদের অভিযোগ, মামলায় একজন গ্রেপ্তার হলেও বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সর্বোচ্চ শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে গত ২৭ জুন শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিড়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (৩২) বাড়ি থেকে রসুলপুর বাজারে যাওয়ার পথে বৈশাকুরা ঈদগাহ-সংলগ্ন সড়কে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাস্তার পাশের একটি ডোবায় ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শফিকুল ইসলাম দুলা মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ সাত বছর প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বেগম আক্তার বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।মামলার তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের অদূরের একটি ঝোপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর দক্ষিণ ঝিড়ারপাড়সহ আশপাশের এলাকায় এখনো উদ্বেগ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হলে নিহতের পরিবার বিচার পাবে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য কেউ জড়িত থাকলে তদন্তে প্রমাণ মিললে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.