নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার তৎকালীন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান। ভুয়া হোল্ডিং তৈরি করে অতিরিক্ত কর ধার্য করার একটি অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পৌরসভার একজন বাসিন্দা কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভায় পদায়ন করা হয়েছে। সেখানেও পৌরসভার গাড়ি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পাকুন্দিয়া পৌরসভার বাসিন্দা মোঃ নাসির উদ্দিনের দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (স্থানীয় সরকার শাখা) একটি তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে দেখা যায়, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা, কর নির্ধারক ও কর আদায়কারী মিলে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে অভিযোগকারীর নামে একটি ‘ভুয়া’ হোল্ডিং তৈরি করেন এবং তার ওপর অতিরিক্ত ট্যাক্স ধার্য করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত কর আদায়কারী পাকুন্দিয়া পৌরসভায় দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে দাবি করে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তদন্তে সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ‘পৌরসভা কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ১৯৯২’ এর স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অপরাধ করেছেন।
গত ২ জুন, ২০২৫ তারিখে কিশোরগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক (যুগ্মসচিব) ফৌজিয়া খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে (স্মারক নম্বর: ৪৬.৪১.৪৮০০.০১০.১২.০০২.২৩-২৮২) স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে এই জালিয়াতির বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়। চিঠিতে ভুয়া হোল্ডিং সৃজন ও অতিরিক্ত ট্যাক্স ধার্যের সাথে সরাসরি জড়িত পাকুন্দিয়া পৌরসভার তৎকালীন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধের অকাট্য প্রমাণসহ চিঠি পাঠানোর পর দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও মন্ত্রণালয় এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে জেলা প্রশাসন কর্তৃক অপরাধের প্রতিবেদন দেওয়ার ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩ জুন, তৃতীয় শ্রেণির পাকুন্দিয়া পৌরসভা থেকে বদলি হয়ে কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় (প্রথম শ্রেণি) যোগদান করেন অভিযুক্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান। জালিয়াতির প্রমাণ থাকার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভায় পদায়নকে এক ধরণের 'পুরস্কার' হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা।
শুধু তাই নয়, বর্তমানে কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় কর্মরত এই পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহারের নতুন অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, সৈয়দ শফিকুর রহমান কিশোরগঞ্জ শহরে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা কাজে পৌরসভার গাড়িটি দেদারসে ব্যবহার করছেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকুন্দিয়া পৌরসভার কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি। জেলা প্রশাসন তদন্ত করে অপরাধ প্রমাণ করার পরও যদি মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভালো জায়গায় বদলি করে, তবে সাধারণ মানুষ কার কাছে বিচার পাবে?"
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় কর্মরত নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমানের সাথে গত ৩ দিন যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া পৌরসভায় কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ভুয়া হোল্ডিং সৃজনসহ অতিরিক্ত হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য্যের একটা অভিযোগ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে এই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাকুন্দিয়াকে প্রদান করা হয়। তদন্তে বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ০২/০৬/২০২৫ তারিখে পত্র প্রেরণ করেন। এরপর স্থানীয় সরকার থেকে পরবর্তী কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.