মো. জসিম উদ্দিন
বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হোসেন দিলুর বিরুদ্ধে নারী-সংক্রান্ত অভিযোগ, আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, খেলোয়াড় বঞ্চনা, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় উশু অঙ্গনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—নারী-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় সরকারি তদন্তের পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তিনি কীভাবে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া বর্তমান কমিটির অভিযোগ রয়েছে, মার্শাল আর্টে পর্যাপ্ত দক্ষতা না থাকা ব্যক্তিরা ও অর্থের বিনিময়ে তিনি কমিটিতে স্থান দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে নেই।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ১০তম ওয়ার্ল্ড জুনিয়র উশু চ্যাম্পিয়নশিপ–২০২৬-এ বিকেএসপির খেলোয়াড় মো. মিজানুর রহমানের নামে টিম এন্ট্রি থাকলেও তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
ফেডারেশনের ২০০৭–২০১০ এবং ২০২৪–২০২৬ সময়কালের আর্থিক কার্যক্রমের নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, ওই সময়ের অডিট সম্পন্ন হয়ে থাকলে তা এখনো প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন।
এদিকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) সাধারণ সম্পাদক দিলদার হোসেন দিলুর বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগপত্র পাঠিয়েছে বলেও জানা গেছে। প্রতিবেদকের কাছে ওই অভিযোগপত্রের অনুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে।
এছাড়া আনসার বাহিনীতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
খেলোয়াড়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে অনুষ্ঠিত জাতীয় জুনিয়র উশু চ্যাম্পিয়নশিপের অনেক অংশগ্রহণকারী এখনও তাদের সার্টিফিকেট পাননি। এতে শিক্ষা, চাকরি ও ক্রীড়াজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ফেডারেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খাবার সরবরাহের কাজ নিয়মিতভাবে সাধারণ সম্পাদকের এক নিকটাত্মীয় (ভাতিজা)কে দেওয়া হতো। এ ঘটনাকে ঘিরে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে।
২০১০ সালে জাতীয় উশু দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জুতা ও মোজা চুরির অভিযোগে সাধারণ সম্পাদক দিলদার হোসেন দিলুর বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগ্য খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সাধারণ সম্পাদকের নিজস্ব ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া অতীতে সারা দেশে অসংখ্য নিবন্ধিত উশু ক্লাব থাকলেও বর্তমানে সেগুলো কার্যত নিষ্ক্রিয় করে শুধুমাত্র নিজস্ব অনুসারীদের ক্লাব নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক পদকজয়ী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যোগ্য অনেককে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সাধারণ সম্পাদকের নিজ এলাকার এক ছাত্রীকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।
ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির অধিকাংশ সদস্য, এমনকি সভাপতিও সাধারণ সম্পাদকের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হোসেন দিলু বলেন, "আমার বিরুদ্ধে ফেডারেশনের একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। নারী-সংক্রান্ত অভিযোগও সত্য নয়।"
তবে প্রতিবেদকের কাছে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি, বিকেএসপির অভিযোগপত্রসহ অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.