স্টাফ রিপোর্টার :
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার উত্তর ফেকামারা (নয়া পাড়া) এলাকায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, হামলা ও দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া থাকার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন, আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও প্রতিপক্ষের ভয়ভীতি, হামলা ও বিভিন্ন অপকৌশলের কারণে তারা নিজ পৈত্রিক ভিটায় ফিরতে পারছেন না।শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার উত্তর ফেকামারা নয়াপাড়া এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং এলাকার সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সবুজ মিয়া। তিনি বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তিনি ও তার পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগের পর হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন। কিন্তু জামিন পাওয়ার পরও মামলার প্রতিপক্ষ বাচ্চু ও মাহফুজ গংয়ের কারণে তারা নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না।তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘরের মালামাল, নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং মাছের ঘেরের মাছ পর্যন্ত লুটপাট করা হয়েছে। এমনকি অনেক ঘরের টিন, দরজা-জানালা খুলে নেওয়ার পাশাপাশি দেয়ালের ইট পর্যন্ত খুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এক বৃদ্ধা নারী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “মরার আগে স্বামীর ভিটেতে ফিরতে চাই। নিজের ঘরেই শেষ নিঃশ্বাস ফেলতে চাই।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া থাকার কারণে শিশুদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে, বয়স্করা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে।সবুজ মিয়া আরও বলেন, “জেল খেটেছি, আদালত আমাদের জামিন দিয়েছেন। কিন্তু জামিনে মুক্ত হওয়ার পরও নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছি না। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েছি, জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েছি, তবুও নিরাপদে বসবাসের সুযোগ পাইনি।”তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া টিন দিয়ে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে নির্মাণাধীন ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বলা হচ্ছে যে তারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের যদি এত শক্তি থাকত, তাহলে আমরা মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকতাম না। প্রশাসনের কাছে ঘরে ফিরতে সহযোগিতা চাইতে হতো না।”তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধী কি না, সেটি আদালত নির্ধারণ করবেন। আদালত জামিন প্রদান করার পরও যদি কেউ নিজ বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে না পারেন, তবে বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে সহযোগিতা এবং নিরাপদে নিজ বসতভিটায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।সংবাদ সম্মেলনের শেষে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.