সরকার অরুণ যদুঃ কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের রমনা ঘাটে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ও জলচ্ছ্বাসে অন্তত ২৫টি নৌকা ডুবে ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে রমনা ঘাট এলাকায় হঠাৎ সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ও জলচ্ছ্বাসে ব্রহ্মপুত্র নদ উত্তাল হয়ে ওঠে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘাটজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে যাত্রী, মাঝি ও শ্রমিকরা নৌকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়েও নিজেদের রক্ষা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টিপাত হয়নি। বিকেলের দিকে হঠাৎ নদীর ওপর তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়। প্রবল বাতাস ও জলচ্ছ্বাসের আঘাতে ঘাটে নোঙর করা ছোট ও মাঝারি আকারের অন্তত ২০টি নৌকা তলিয়ে যায়। একই সঙ্গে চারটি বড় নৌকা দুমড়ে-মুচড়ে নদীগর্ভে ডুবে যায়।
কোদালকাটি গ্রামের নৌকার মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, "মালামাল ও যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ জলচ্ছ্বাস শুরু হলে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকায় থাকা ৫৬ বস্তা সার, দুটি তেলের ড্রাম, সুপারির বস্তাসহ যাত্রীদের বিভিন্ন মালামাল
নদীতে তলিয়ে গেছে। অনেক চেষ্টা করে মাত্র তিন বস্তা সার উদ্ধার করতে পেরেছি।" আরেক নৌকার মালিক আলী হোসেন বলেন, "ঘাটে বাঁধা থাকা আমার ৬০ হাত দীর্ঘ নৌকাটি মুহূর্তেই ভেঙে পানির নিচে তলিয়ে যায়।"
স্থানীয় বাসিন্দা মাজু ইব্রাহিম জানান, আকাশ মেঘলা থাকলেও তখন বৃষ্টি ছিল না। আকস্মিক জলচ্ছ্বাসের তোড়ে তার ২৫ হাত দীর্ঘ নৌকাসহ আশপাশে বাঁধা থাকা আরও কয়েকটি নৌকা ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছোট নৌকাগুলো উদ্ধার করা গেলেও বড় নৌকাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চিলমারী রমনা ঘাটের বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা পুতুল রায় বলেন, বিকেল ৪টার কিছু আগে হঠাৎ প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিবেগে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। যদিও এর স্থায়িত্ব ছিল অল্প সময়ের, তবুও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চারটি বড় নৌকা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ডুবে গেছে। বিআইডব্লিউটিএর একটি স্পিডবোটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অন্তত ২০টি ছোট নৌকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে। ডুবে যাওয়া নৌকা ও মালামাল উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন, নৌযান মালিক ও সংশ্লিষ্টরা যৌথভাবে কাজ করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এমন আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ও জলচ্ছ্বাসে নদীপথে চলাচলকারী নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা নদীঘাটগুলোতে আগাম সতর্কবার্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.