— মাইনুল হক মেনু, সাংবাদিক ও লেখক
একটি হেলমেট শুধু একটি নিরাপত্তা সরঞ্জাম নয়, এটি হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন সড়কে অসংখ্য মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় কেউ চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করছে, কেউ হারাচ্ছে স্মৃতিশক্তি, আবার কেউ অকালে হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে। অথচ একটু সচেতনতা এবং একটি হেলমেট ব্যবহার করলেই অনেক বড় দুর্ঘটনা থেকেও বেঁচে ফেরা সম্ভব।
মোটরসাইকেল চালানোর সময় মাথায় হেলমেট ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি এবং আইনগতভাবেও বাধ্যতামূলক। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, আমরা অনেকেই এই নিয়ম মানতে চাই না। অনেকে হেলমেট সঙ্গে রাখলেও মাথায় ব্যবহার না করে মোটরসাইকেলের সামনে ঝুলিয়ে রাখেন বা হাতে নিয়ে চালান। যেন হেলমেটটি শুধু পুলিশকে দেখানোর জন্য, নিজের জীবন রক্ষার জন্য নয়।
একবারও কি আমরা ভেবে দেখি—একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তের মধ্যেই বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের পুরো ভবিষ্যৎ? একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনায় মারা গেলে বা পঙ্গু হয়ে গেলে শুধু একটি মানুষ নয়, পুরো পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে। সন্তান হারায় তার অভিভাবককে, স্ত্রী হারায় স্বামীকে, বাবা-মা হারায় তাদের আদরের সন্তানকে। সামান্য অসচেতনতার মূল্য তখন দিতে হয় আজীবন।
একটি মানসম্মত হেলমেট কিনতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হতে পারে। অথচ হেলমেট না পরার কারণে পুলিশের মামলায় জরিমানা দিতে হয় তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। আমরা জরিমানা দিতে পারি, কিন্তু নিজের নিরাপত্তার জন্য একটি হেলমেট কিনতে চাই না—এটাই আমাদের বাস্তবতা এবং দুর্ভাগ্য।
সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী বাজারের পরিচিত ব্যবসায়ী, বিবেকানন্দ কনফেকশনারির স্বত্বাধিকারী, কটিয়াদী রিপোর্টার্স ইউনিটির কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি দর্পণ কুমার ঘোষ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। তার পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আজ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছেন। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
এছাড়াও একই দিনে উপজেলার কিশোরগঞ্জ-ভৈরব হাইওয়ে সড়কে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। মাথায় হেলমেট থাকলে হয়তো প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো, কিংবা আঘাতের মাত্রা অনেক কম হতে পারত।
বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ওভারটেকিং প্রবণতা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার না করা। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। অনেকেই মনে করেন, হেলমেট ছাড়া চালানোই যেন স্টাইল বা সাহসিকতার পরিচয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—একটি দুর্ঘটনা সব অহংকার মুহূর্তেই শেষ করে দিতে পারে। শুধু চালক নয়, মোটরসাইকেলের পেছনে বসা আরোহীর জন্যও হেলমেট ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুর্ঘটনার সময় সবচেয়ে বেশি আঘাত লাগে মাথায়। চিকিৎসকদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া।
আমাদের মনে রাখতে হবে, জীবন একটাই। পরিবারে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে প্রিয় মানুষগুলো। তাই সামান্য অসচেতনতা কিংবা অবহেলার কারণে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা কোনোভাবেই উচিত নয়।
মোটরসাইকেল চালানোর সময় অবশ্যই মাথায় হেলমেট ব্যবহার করুন, পায়ে জুতা পরুন, ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, অতিরিক্ত গতি পরিহার করুন এবং নিরাপদে চলাচল করুন। কারণ আপনার সচেতনতাই পারে একটি দুর্ঘটনা থেকে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে রক্ষা করতে।
আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই এবং অন্যদেরও সচেতন করি। মনে রাখবেন একটি হেলমেটই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
ধন্যবাদ সবাইকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.