স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি ও মাদককারবারসহ অন্তত ১১টি মামলার এজাহারনামীয় আসামি রসুলপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ আনিসুর রহমান সরকার ওরফে আনিস মেম্বারকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৫ মে) রাতে দেবিদ্বার থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে তাকে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আনিস মেম্বার উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মৃত নজরুল ইসলাম সরকারের ছেলে। তিনি রসুলপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আনিস মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, জায়গা দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত রুবেল ও ছাব্বির হত্যাকাণ্ড এবং শিক্ষার্থী আবুবকরকে হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১১টি মামলার অন্যতম প্রধান আসামি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রসুলপুর বাজারে সামান্য সিমেন্টের বস্তা বহন করাকে কেন্দ্র করে মামুন নামের এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী ভ্যানচালকের স্ত্রী শারমিন আক্তারের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ভবতোষ কান্তি দে জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে এবং এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তদন্ত চলছে। এদিকে আনিস মেম্বার গ্রেপ্তারের পর তার বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকায় 'ইয়াবা সম্রাট' হিসেবে পরিচিত এই নেতার বিরুদ্ধে সরকারি খাল চুরির চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। স্থানীয়রা জানান, রসুলপুর জব্বর আলী ফকির বাড়ির উত্তর দিকে সরকারি খালের ওপর একটি পাকা বিল্ডিং রক্ষার্থে মৃত সেলিম ফকিরের পরিবারের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা চুক্তি করেন আনিস। পরবর্তীতে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে মূল সরকারি খালটি অন্য দিক দিয়ে ঘুরিয়ে দেন তিনি। এই বিল্ডিং বাঁচাতে সরকারি খাল খননের 'বেকু' (এস্কেভেটর) টানা ৬ দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই আনিস মেম্বার কর্তৃক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, আনিস মূলত আওয়ামী লীগের একজন অন্ধ অনুসারী হলেও নিজের মাদক ব্যবসা ও অপরাধ আড়াল করতে সুযোগ বুঝে সময়ে সময়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে রূপ বদলানোর চেষ্টা করতেন। একজন জাতীয় নেতাকে নিয়ে এমন অশালীন বক্তব্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চরম ধৃষ্টতা বলে মনে করেন স্থানীয়রা। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আনিস মেম্বার একজন চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এদিকে কুখ্যাত এই মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার হওয়ায় দেবিদ্বার থানা পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এলাকাবাসী। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক দল থাকতে পারে না উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আনিস মেম্বারের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.