মাইনুল হক মেনু, স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের উত্তর পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামে চাঞ্চল্যকর ভাতিজা আনোয়ার হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. মহরম আলী (৬০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কটিয়াদী থানার একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর থানাধীন বাতাঘাট ইউনিয়নের গুরুপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য যে,, গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পৈত্রিক বসতভিটা ও জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন (৩০) উত্তর পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মহরম আলী সম্পর্কে তার আপন চাচা।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন আনোয়ার হোসেন নিজ বসতঘরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মহরম আলী ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। তারা আনোয়ারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাকে উত্তর পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফেলে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আহত আনোয়ারকে যাতে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে না পারে, সে জন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চারপাশে মহড়া দিতে থাকে এবং লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। আসামিদের আতঙ্কে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আহত আনোয়ারকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে পারেননি। দীর্ঘ সময় চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে কটিয়াদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা শিরিনা খাতুন বাদী হয়ে কটিয়াদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহারনামীয় ৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়। মামলা নম্বর-১৮, তারিখ ১৬ মে ২০২৬। মামলায় পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৮/৩০২/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়। পরে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বিক তদারকি ও নির্দেশনায় কটিয়াদী থানার এসআই মো. রতন মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।
অভিযানের একপর্যায়ে গত ২৩ মে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর থানাধীন গুরুপাড়া গ্রামে বাতাঘাট ফাঁড়ি পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মহরম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মহরম আলী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
এদিকে বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। খুব দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সকল ধরনের অপরাধ দমনে সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.