মাইনুল হক মেনু, স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর চোখ-মুখ বেঁধে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর লুটপাটের ঘটনায় ভুক্তভোগীর আপন দেবরসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। দিনের বেলায় সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া মিজান একই গ্রামের ইনামুদ্দিনের ছেলে এবং তিনি ভুক্তভোগী সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই। অপর গ্রেপ্তার ইমন পাশ্ববর্তী দড়িপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, ঘটনার পর থেকেই মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন মিজান এলাকা ছেড়ে পাশের জামষাইট গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কটিয়াদী মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম। পুলিশের একটি চৌকস দল প্রথমে জামষাইট গ্রামে অভিযান চালিয়ে মিজানকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ বাড়ির বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় চালের বস্তার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইমন নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শিউলি আক্তার সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে বসবাস করতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি সন্তানদের স্থানীয় স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাসায় ফিরে আসেন। এরপর বিদেশে থাকা স্বামীর সঙ্গে কিছুক্ষণ মোবাইল ফোনে কথা বলেন। পরে রান্নার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ পেছন দিক থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার মুখ চেপে ধরে। একপর্যায়ে তার দুই হাত বেঁধে ফেলা হয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর করে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা কোথায় রাখা আছে তা জানতে চাপ দেয়। পরে ঘরে থাকা প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকার এবং সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। ঘটনার সময় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় শিউলি আক্তার অসহায় অবস্থায় পড়েন।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দিনের বেলায় এমন দুঃসাহসিক লুটের ঘটনায় এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার কটিয়াদী মডেল থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্র ব্যবহার করে অভিযানে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের ওপর সন্দেহ তৈরি হলে মিজানকে নজরদারিতে আনা হয়।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানা-এর ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করা হয়। বিভিন্ন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভুক্তভোগী প্রবাসীর ভাই মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একই ঘটনায় ইমন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.