বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন বহু সময় এসেছে, যখন জনগণ আশার আলো খুঁজেছে একজন দূরদর্শী, মানবিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মধ্যে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য যখন জনগণের কল্যাণ, তখন একজন নেতার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে কর্মে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন—এমন মূল্যায়ন আজ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও ক্রমেই উচ্চারিত হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি শুধু রাজনৈতিক ভাষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—এমন প্রত্যয় নিয়েই তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। আর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেখা যাচ্ছে, দেশের সংকট মোকাবিলা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে তিনি দিনরাত কাজ করে চলেছেন। তার প্রশাসনিক সক্রিয়তা, সংকট মোকাবিলার দক্ষতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেশের মানুষের মাঝে নতুন আস্থার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব যখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন সরকার দ্রুত স্বাস্থ্যখাতকে সক্রিয় করে তোলে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি, হাসপাতাল প্রস্তুতি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়। একটি দায়িত্বশীল সরকারের কাছ থেকে জনগণ যেমন দ্রুত পদক্ষেপ আশা করে, তিনি ঠিক তেমনই বাস্তবধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার অভিঘাত বাংলাদেশেও পড়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুধু অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার দিকেই মনোযোগ দেননি; বরং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। গণপরিবহন খাতে ভর্তুকি, কৃষিতে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তিনি একটি সুসংগঠিত সংকট ব্যবস্থাপনার পরিচয় দিয়েছেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ হচ্ছে কৃষক। সেই কৃষকদের ধান যখন আকস্মিক ভারী বর্ষণে নষ্ট হয়ে যায়, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বীজ ও সার বিতরণ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—এই রাষ্ট্র কৃষকের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করে।
বর্তমান বিশ্বে রাজনীতি শুধু ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা নয়; এটি জনগণের আস্থা অর্জনের এক অবিরাম পরীক্ষা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছেন বাস্তবমুখী উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে। অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার মতো বিষয়গুলোতে তার সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপ একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু একটি বিষয় আজ অস্বীকার করার উপায় নেই—দেশ পরিচালনায় তারেক রহমান একটি সক্রিয়, দৃঢ় এবং মানবিক নেতৃত্বের পরিচয় দিতে চাইছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই নিজেদের প্রমাণ করতে হয়।
বাংলাদেশ আজ এক পরিবর্তনশীল সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে সময়টি সহজ নয়। কিন্তু এমন কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও যদি একটি সরকার জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আন্তরিকতা দেখায়, তবে তা অবশ্যই ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম দেয়।
জনগণের প্রত্যাশা সবসময়ই অনেক বড়। সেই প্রত্যাশা পূরণ করা সহজ নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন এবং দেশের মানুষকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র পরিচালনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইছেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। উন্নয়ন, মানবিকতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব—এই তিনের সমন্বয়েই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। আর সেই পথেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়াস এখন দৃশ্যমান।
— রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান
বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
১৯ মে ২০২৬ ইং
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.