:আমজাদ শরীফ:
কিশোরগঞ্জের দিগন্তজোড়া হাওরজুড়ে এখন শুধু পানির থৈ থৈ গর্জন। সপ্তাহখানেক আগেও যেখানে বাতাসের দোলায় দুলছিল কৃষকের ঘামঝরানো সোনালি বোরো ধান, আজ সেখানে কেবলই হাহাকার। গত ৫-৬ দিনের অবিরাম বর্ষণ আর উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। কৃষকের বুক ভরা স্বপ্ন এখন পানির নিচে পচে মরছে, আর তাদের চোখে এখন শুধুই অন্ধকার ও অনিশ্চয়তার নোনা জল।
হাওরের মানুষের কাছে বোরো ধানই একমাত্র ফসল, যা দিয়ে তাদের সারা বছরের খোরাকি আর জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো হয়। বৈশাখের এই সময়ে কৃষকের ঘরে ধান ওঠার কথা ছিল, উৎসবের আমেজ থাকার কথা ছিল প্রতিটি আঙিনায়। কিন্তু প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেলায় মুহূর্তেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।
তাড়াইল,করিমগঞ্জ,ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলার ধান প্রায় পুরোপুরি তলিয়ে গেছে।
অনেক কৃষক আধাপাকা ধানই কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাতে লোকসান ঠেকানো যাচ্ছে না।
বন্যার কারণে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরিও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ, যা দিশেহারা কৃষকের ওপর ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাড়াইল উপজেলার এক প্রান্তিক কৃষক ছলছল চোখে বলছিলেন, "বাবার জমি বন্দক রাইখা সার-বিষ দিছিলাম। আশা আছিল ধান বেইচ্যা ঋণ শোধ করবাম। অহন সব তো পানির নিচে। আল্লাহ্ ছাড়া আমরারে আর দেখার কেউ নাই।" এই হাহাকার এখন ঘরে ঘরে। যে হাওর ছিল সমৃদ্ধির প্রতীক, সেই হাওরই এখন বিষাদের সিন্ধু। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট আর পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাজ।
ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা হলেও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বাঁধ রক্ষা বা আগাম সতর্কবার্তার সীমাবদ্ধতা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ থাকলেও, আপাতত কৃষকের একমাত্র চাওয়া—সরকারি সহায়তা ও কৃষি ঋণের কিস্তি স্থগিত করা।
বৈশাখের যে রোদ সোনালি ধানকে ঝলমলে করার কথা ছিল, সেই বৈশাখই আজ কিশোরগঞ্জের মানুষের জন্য বয়ে এনেছে এক দীর্ঘশ্বাস। কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের এই কান্না থামানোর সাধ্য হয়তো প্রকৃতিরই আছে, নতুবা এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পাড়ি দিতে হবে এক চরম খাদ্য সংকটের বছর।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.