আতাউল হাসান দিনার :-
মঙ্গলবার ৩ মার্চ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের হাজিরগল গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক হতদরিদ্র রিক্শা চালক পরিবারের বসতঘর ও গৃহপালিত পশু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, পিতা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, জানান—ভোর রাতে সেহেরি খেয়ে নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ আগুনের তাপ ও ধোঁয়া টের পেয়ে ঘুম থেকে জেগে দেখেন ঘরে আগুন জ্বলছে। তিনি ধারণা করছেন, ঘরের ভেতরে অটোরিকশা চার্জে লাগানো ছিল, সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে ঘরে থাকা একটি ছাগল পুড়ে মারা যায় এবং আরেকটি ছাগল গুরুতর দগ্ধ হয়। এছাড়া একটি রিকশা ও একটি সাইকেলও আগুনে পুড়ে যায়।
খাইরুল ইসলাম বলেন, আমি একজন রিকশাচালক। কষ্ট করে মা, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সংসার চালাই। আমার স্ত্রী ছাগল পালন করে বছরে কিছু আয় করতেন। তিলে তিলে টাকা জমিয়ে এই ঘরটি নির্মাণ করেছিলাম। আজ সব শেষ হয়ে গেছে। সরকারের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানাই, যেন আবার ঘরটি নির্মাণ করতে পারি।
এলাকাবাসী জানান, সেহেরি খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন তারা। হঠাৎ চিৎকার শুনে বের হয়ে দেখেন আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ আরমান হোসেন উজ্জ্বল বলেন, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ঘর, দুইটি ছাগল, একটি সাইকেল ও রিকশার অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। আগুনের সূত্রপাত বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে এবং প্রশাসনিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।