তৌকির আহাম্মেদ হাসু, জামালপুর প্রতিনিধি:জামালপুরে সরিষাবাড়ী পৌরসভা-এর কর্মকর্তা–কর্মচারীদের গ্রাচুইটি, আনুতোষিক ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের ৪ কোটির বেশি টাকা বকেয়া থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় বকেয়া নিষ্পত্তির আগেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ও আর্থিক অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল-এর কাছে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে পৌরসভার কর আদায়কারী মিয়া হাসান মাসুদসহ ২৩ জন কর্মকর্তা–কর্মচারী তাদের বকেয়া পাওনার বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় তারা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে—কর্মকর্তা–কর্মচারীদের অবসর ভাতা ও আনুতোষিক বকেয়া: ১ কোটি ৩৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪৯১ টাকা। এছাড়া সাতজন (অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত) কর্মচারীর বকেয়া: ১ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৩৬৩ টাকা।
আনুতোষিক তহবিলে বকেয়া: ২ কোটি টাকা।সব মিলিয়ে মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭৭ টাকা।
অপরদিকে, বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী পৌরসভার কাছে প্রায় ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে পৌরসভায় স্থায়ীভাবে প্রায় ২৩ জন কর্মকর্তা–কর্মচারী কর্মরত আছেন।
পানি সরবরাহ শাখায় স্থায়ী পদে ২ জন ও দৈনিক হাজিরাভিত্তিক ৪ জন কর্মরত। এছাড়া
চুক্তিভিত্তিক ২১ জন এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিক ২৬ জন সুইপার দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী কর আদায়কারী পদে ২ জন, বিল ক্লার্ক পদে ১ জন এবং পাম্পচালক পদে ১ জন—মোট ৪ জন নতুন কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মচারীদের ক্ষোভ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী বলেন, “আগে বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা উচিত। তা না করে নতুন নিয়োগ দিলে পৌরসভার ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত অনেক কর্মকর্তা–কর্মচারীর গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ আটকে আছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী,কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন–ভাতা, গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড সংরক্ষণ ও সময়মতো পরিশোধ করা পৌর কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতা। পাশাপাশি নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, অনুমোদিত জনবল কাঠামো ও প্রশাসনিক অনুমতি অনুসরণ করা আবশ্যক।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার(ভূমি) লিজা রিছিল বলেন,“পৌরসভার সাতজন কর্মচারী অবসর গ্রহণ বা মৃত্যুবরণ করায় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। সে কারণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বকেয়া গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিশোধের দাবিতে কর্মকর্তা–কর্মচারীরা একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
একদিকে প্রায় সাড়ে চার কোটির বেশি অভ্যন্তরীণ বকেয়া এবং বিপুল বিদ্যুৎ বিলের দায়, অন্যদিকে নতুন নিয়োগ—এ পরিস্থিতিতে পৌর প্রশাসনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বকেয়া দ্রুত পরিশোধ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.