সুলাইমান আহমদ:
কিশোরগঞ্জের দানাপাটুলী ইউনিয়ন ও কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন এলাকায় লেয়ার মুরগির খামার গত কয়েক বছরে গ্রামীণ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিল। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা জুড়ে ছোট বড় অসংখ্য ফার্ম গড়ে ওঠে। মাথিয়া গ্রামের পূর্ব দিকে তাকালেই চোখে পড়ে সারি সারি শেড। এসব খামারকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল নতুন কর্মসংস্থান, বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ এবং ফিড, ওষুধ ও পরিবহন ব্যবসার বিস্তার। বহু তরুণ নিয়মিত আয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন।
তবে গত ছয় মাসে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ডিমের বাজারদর ও উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬ টাকা ৯০ পয়সায়, অথচ উৎপাদন খরচ প্রায় ৯ টাকা ৯০ পয়সা। প্রতিটি ডিমেই প্রায় ৩ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের। ৫০ কেজি ফিডের একটি বস্তা কিনতে খরচ পড়ছে ২৬০০ থেকে ২৭০০ টাকা। খাদ্য ও ওষুধের বাড়তি দাম পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
দানাপাটুলী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, এই দুই ইউনিয়নে লেয়ার ফার্ম এখন হাজারো পরিবারের প্রধান জীবিকা। ন্যায্যমূল্য না থাকায় খামারিরা প্রতিদিন ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা না নিলে অনেক ছোট ও মাঝারি খামার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পশ্চিম মাথিয়া বিবর্তন সামাজিক সংস্থার সভাপতি ফেরদৌস আলম বলেন, গ্রামে যে অর্থনৈতিক গতি লেয়ার ফার্মকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল, তা এখন থমকে যাওয়ার উপক্রম। এই খাত টিকিয়ে রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পশ্চিম মাথিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু তাহের বলেন, একটি গ্রামে শিল্পভিত্তিক কৃষি টিকে থাকলে তার সুফল পরিবার ও শিক্ষার্থীদের জীবনেও পড়ে। পরিবারের আয় স্থিতিশীল থাকলে শিশুদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হয় না। তাই লেয়ার খাত রক্ষায় সবার আন্তরিক ভূমিকা জরুরি।
দানাপাটুলী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শাহজাহান সানাউল্লাহ বলেন, খামারিরা এখন চরম চাপে আছেন। ফিড ও ওষুধের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের টিকে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে। উৎপাদন খরচ কমানো এবং ডিমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ নেই।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে খামারিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। অন্যথায় এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।